,



ওদেরও কষ্ট হয়, শুধু মুখ ফুটে বলতে পারে না

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে এখনও কদর কমেনি ঘোড়ার গাড়ির। বিংশ শতাব্দীতে এসেও এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পরিবহণ থেকে শুরু করে মালামাল আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই গাড়ি। তবে ঘোড়ার গাড়িকে জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করে ঘোড়াকে বেগার খাটানো হচ্ছে।

আজকাল ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে মালবোঝাই ট্রাকের বিপরীতে। অর্থাৎ, একটি-দু’টি ঘোড়া দ্বারাই ট্রাকবোঝাই তুল্য মাল-আসবাব বহন করানো হচ্ছে যা ঘোড়ার ন্যায় অবলা প্রাণীর পক্ষে বহন মারাত্মক কষ্টসাধ্য! কিন্তু এভাবেই লাঠি হাতে মেরে মেরে ঘোড়াকে চালিত করা হচ্ছে দিনকে দিন! ঘোড়ার পিঠে চেপে এভাবেই ভারী সব আসবাব-মালপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘোড়া তো আর কথা বলতে পারে না। তাই মুখ বুজে নীরবে সয়ে এরূপ অন্যায়েরও যেন কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না ঘোড়া। উপরন্তু, ঘোড়াকে আঘাত করে করে মোটা লাঠি দ্বারা চালনা করা হচ্ছে। বিশ্রামেরও কোনো সুযোগ নেই যেন ঘোড়ার! এভাবে পাহাড়সম বোঝা টেনে বাধ্য হয়ে মাইল মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে নিরীহ ঘোড়াকে! হায়রে, মানুষ! কোথায় তবে মনুষ্যত্ব? কিভাবে তবে তোরা আশরাফুল মাখলুকাত?
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এই অসহ্য পাহাড়সম ভার টানতে না পেরে ঘোড়া শুয়ে পড়তে যাচ্ছে, ঘোড়ার জিহ্বা বের হয়ে পড়ছে, তবু লাঠির আঘাতে একনাগাড়ে ঠং ঠং করে পা বাড়াতে হচ্ছে ঘোড়াকে! ঘোড়ার চোখে যেন ভেজা কান্নার ছাপ- তবু সেই কান্না দেখতে পাচ্ছে না আজকের সমাজের পাষণ্ড, হৃদয়হীন এই মনুষ্য জাতি! মনুষ্য আজ বিকিয়ে গেছে স্বার্থের কাছে, অর্থের কাছে এ সকল মায়া-মানবিকতার কোনো মূল্য নেই নিছক স্বার্থান্বেষী দুনিয়ায়
Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর