,



এমপিও নীতিমালা সংশোধনে অধ্যক্ষ আসাদুল হকের ১১ দফা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বার্থ পরিপন্থী বিদ্যমান অসংগতি ও বৈষম্য দূরীকরণে সংশোধনীর কতিপয় প্রস্তাব ও দাবির আবেদন পেশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি’র (বাকশিস) কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক উক্ত স্মারক আবেদন প্রদান করেন। স্মারক আবেদনের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব ও দাবি গুলো শিক্ষা দর্পণে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী। পাঠকদের জন্য দাবি সমূহ তুলে ধরা হলো:

১. সংশোধনী প্রস্তাব: জনবল কাঠামো ২০১৮, ধারা : ১১.৪ ও ১১.৫

বেসরকারি কলেজের এমপিওভুক্ত প্রভাষকগণ প্রভাষক পদে ০৮ (আট) বছর পূর্তিতে চাকরি সন্তোষজনক হলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন। এতে মোট পদ সংখ্যা বৃদ্ধি পাবেনা।

সহকারী অধ্যাপক হবার ক্ষেত্রে ৫:২ অনুপাত কথাটি বিলুপ্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে টাইম স্কেল বা উচ্চতর বেতন গ্রেডের প্রয়োজন নেই কেননা একজন শিক্ষক আজীবন একই পদে চাকুরি করা তা মানবিকতার পরিপন্থী । চাকুরির ক্ষেত্রে যদি পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকে শিক্ষক তার কর্মোদ্যম হারাবে। পক্ষান্তরে অনুপাত প্রথার কারণে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক পরে উপাধ্যক্ষ এবং সর্বোপরি অধ্যক্ষও হতে পারবে এটি বৈষম্যমূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

২. জনবল কাঠামো-২০১০ এর ধারা : ১১ (জ), ২০১৮ এর ধারা : ১১.৫

সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপকগণ সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন এবং বেতন স্কেল ৫ম গ্রেড প্রাপ্য হবেন। একই নীতিমালায় সহযোগী অধ্যাপকগণ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন ও বেতন স্কেলের ৪র্থ গ্রেড প্রাপ্য হবেন। এতে মোট পদ সংখ্যা কলেজের ধরণ (ডিগ্রি, অনার্স-মাস্টার্স বা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ) অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এ ক্ষেত্রে ২০১০ এর ধারা ১১(জ) বর্ণিত ৩ঃ১ অনুপাত কথা বিলুপ্ত সাপেক্ষে সহযোগী অধ্যাপক সংযোজন করতে হবে এবং অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে। ২০১৮ এর ধারা ১১.৫ কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য পৃথক নীতিমালার ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে।

৩. সংশোধন ও সংযোজন প্রস্তাব। জনবল কাঠামো-২০১৮ পরিশিষ্ট’ঘ’
জনবল কাঠামো- ২০১০ পরিশিষ্ট’ঘ’

সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সহযোগী অধ্যাপকের পদোন্নতি ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি এবং কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা অর্জন না করা পর্যন্ত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জনবল কাঠামো ২০১০ এর পরিশিষ্ট ‘ঘ’ (ক. বিদ্যালয: ১ এবং খ.কলেজ: ১,২,৩,৪) এর নিয়ম ধারা ২০১৮ এর পরিশিষ্ট ‘ঘ’ ধারায় প্রতিস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ প্রভাষক / সহকারী অধ্যাপক পদে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ পদে এবং প্রভাষক / সহকারী অধ্যাপক পদে ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হতে পারবে। যেহেতু পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো দেয়া হয়। জনবল কাঠামো ২০১৮ এর পরিশিষ্ট ‘ঘ’ (ক. বিদ্যালয়: প্রথম সারির ৩য় স্তম্ভ), (খ.কলেজ: ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সারির ৩য় স্তম্ভ) পরিবর্তন করে সংযোজন করতে হবে যা ২৫ ফেব্রুয়াারি ২০১৯ তারিখের নথি নং ৩৭.০০.০০০০.০৭৪.০৩০.০০১.২০১৭.৫৯ স্মারকের পরিপত্রটি বাতিল করা প্রয়োজন।

সংযোজন প্রস্তাব:

৪. এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলীর নীতিমালা প্রণয়ন :

জনবল কাঠামো-২০১৮, ধারা : ১২

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুসারে সকল ধারার এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের সমধারার সমস্তরের প্রতিষ্ঠানে সমপর্যায়ের পদে বদলি করার জন্য জনবল কাঠামো-২০১৮ এর ধারা ১২ এর আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন করা যায়। এ ক্ষেত্রে আগের আবেদনকারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আবেদিত প্রতিষ্ঠানে বদলী/ নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।

৫. সংযোজন প্রস্তাব ও দাবি:

অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের প্যাটার্ন ভুক্ত করার জন্য সংযোজন প্রস্তাব।

জনবল কাঠামো-২০১৮

ধারা : ৬.২(খ), ও ৬.২.১ (খ)

পরিশিষ্ট : ‘ঘ’ এর কলেজ ‘খ’

বেসরকারি কলেজ সমূহে ডিগ্রি পর্যায়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হওয়ায় এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণকারী অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানরত শিক্ষকদের ২০১৮ সালের জনবল কাঠামোর ধারা ৬.২ (খ) ও ৬.২.১ ‘খ’ এবং পরিশিষ্ট ‘ঘ’ এর ‘খ’ তে প্যাটার্নভুক্ত করে স্তর নির্ধারণ ও সংযোজন করতে হবে।

৬. সংযোজন প্রস্তাব:

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন। NTRCA শক্তিশালী করণ।

জনবল কাঠামো-২০১৮

ধারা: ৫.৭ ও ১১.১

NTRCA এর পরিবর্তে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে “বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন” গঠন করে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকল পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করার বিধান সংযুক্ত করতে হবে। যতদিন শিক্ষক নিয়োগ কমিশন না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত NTRCA কে আরও শক্তিশালী করে সকল পদে নিয়োগ করার বিধান সংযুক্ত করা। যদিও জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ৫.৭-এ ও ১১.১-এ বলা আছে কিন্তু NTRCA কর্তৃক কার্যকর করা হয়েছে শুধু এন্ট্রি লেভেল শিক্ষক পদে নিয়োগ। প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ অন্য সব পদেও নিয়োগ দ্রুত কার্যকর করার বিধান সংযুক্ত করার দাবি।

৭. সংযোজন প্রস্তাব :

উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের মূল্যায়ন।

বেসরকারি কলেজে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর ডিগ্রি যেমন এম.ফিল/পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারীদের মূল্যায়ণ করাও শিক্ষার মান বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১৩ নং ধারায় উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার সংযুক্ত করারও শিক্ষকদের অন্যতম প্রত্যাশা।

৮. সংশোধন প্রস্তাব:

জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে মেধার মূল্যায়ন:

জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একাডেমিক রেজাল্ট গণনায় আনাও প্রয়োজন। তাহলে মেধাবীদের মূল্যায়ণ কিছুটা হলেও হবে। এক্ষেত্রে জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১৩ নং ধারা সংশোধন করতে হবে।

৯. সংযোজন প্রস্তাব :

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তরে প্রেষণে নিয়োগ।

জনবল কাঠামো-২০১৮ সংযোজন।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রণালয়ের অধীন বোর্ড, বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর বা সরকারি অন্যান্য সংস্থায় প্রেষণে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব জনবল কাঠামো-২০১৮ তে সংযোজন করার দাবি।

১০. সংশোধন প্রস্তাব:

চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি :

ধারা : ১১.৬, জনবল কাঠামো- ২০১৮

দেশের মানুষের গড় আয়ু

বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকুরীজীবীদের অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। সে কারণে বেসরকারি এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের অবসরের বয়সও ৬০ বছরের পরিবর্তে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব করছি। জনবল কাঠামো-২০১৮ এর ১১.৬ নং ধারা সংশোধন করতে হবে।

১১. সংযোজন প্রস্তাব ও দাবি :

এমপিওভুক্ত করণ ধারায় সংযোজন।

ধারা: ৫, জনবল কাঠামো-২০১৮

এমপিওর শর্তপূরণকারী অনুমোদিত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমপিওভূক্ত করার জন্য নিশ্চয়তার বিধান সংযোজন করা।

সর্বোপরি মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে, বৈষম্য দূরীকরণে মুজিববর্ষে সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালার ভিত্তিতে দেশের সকল এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য নির্দিষ্ট বিধান সংযুক্ত করার দাবি। যা এমপিও নীতিমালার সাথে সংযুক্ত করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর