,



সুখ-স্বপ্ন-সাধ ভেসে যায় বানের পানিতে

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বছর আসে বছর যায় সুখের ঘর বাঁধে নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষ। তারাও স্বপ্ন দেখে মনে অনেক সাধ জাগে। চেষ্টাও চালিয়ে যায় সুখে থাকার। কিন্তু সেই সুখ-স্বপ্ন আর সাধ প্রতি বছর কেড়ে নিতে হানা দেয় বন্যা সাথে ভাঙ্গন, এবারে যোগ দিয়েছে করোনা। সুখের মুখ দেখার আগে ভাঙ্গনের সাথে সাথে বন্যা ভাসিয়ে নেয় তাদের সাজানো ঘর সংসার রেখে দেয় দুঃখ কষ্ট আর হতাশা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দু’দুবার বন্যা তাদের সুখ শান্তি আর সংসার তছনছ করে দিয়েছে। বাড়িয়ে দিয়েছে দুঃখ কষ্ট মনের যন্ত্রণা।

সাথে করোনা ভাইরাস ফেলেছে আতঙ্কে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ইউনিয়নের পূর্ব নটারকান্দি এলাকার রোস্তম আলী (৬৫)সহ কয়েকটি পরিবার ঘরের জিনিসপত্রসহ গরু ও প্রয়োজনীয় যা নিতে পেরেছে তা নৌকায় নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন আশ্রয়ের খোঁজে। প্রতি বছর তার মতো অনেকে এক চর থেকে অন্য চরে গড়েন সংসার। আবারো আসে বন্যা, ভাঙ্গে নদী কেড়ে নেয় ভিটা ভেসে যায় সুখের সংসার। বেশ কয়েকবার নদী ভাঙ্গনে শিকার ও বারবার বন্যায় সুখ-স্বপ্ন হারানো রোস্তম আলীর সাথে কথা হতেই বলে উঠেন বাপুরে কি আর শুনবের চান এই নদীতে তো ভাঙ্গন আছে এর উপর বানের পর বান সব কেড়ে নিল। এবারেও ভেসে নিল আমার সাজানো সংসার। ছাড়তে হলো ভিটাটুকু। থাকার স্থানটুকু আর থাকলো না, বানের পানি ভাসি নিল সেটুকু। শুধু রোস্তম আলী নয় তার মতো শত শত পরিবারের সুখ-স্বপ্ন-সাধ ভেসে নেয় নদী ভাঙ্গন আর বন্যা। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ পড়েছে বিপাকে হাতে নেই কাজ পাচ্ছেনা ত্রাণের চাল। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম। খেটে খাওয়া ও দিনমজুররা পড়েছে চরম বিপাকে। বন্যায় আক্রান্তের সাথে সাথে করোনার প্রভাব দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বানভাসী মানুষরা চরম আতঙ্কে দিন কাঁটাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে (বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত)। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, নদী ভাঙ্গন ও বানভাসী মানুষের মাঝে ধারাবাহিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর