,



সব খাতের দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারেই সতর্ক সরকার, অভিযান চলবে

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিব্রত হচ্ছে দলটি। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাঁরা নজরদারিতে রয়েছেন। সরকারি দলের প্রভাবশালীরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে বেশির ভাগ সরকারি দলের লোকজনের নাম আসছে। এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর পরও সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সম্প্রতি কভিড পরীক্ষা ও চিকিৎসায় অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম এবং নকল মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক নেত্রী শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাহেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি উপকমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতে নিয়মিত আলোচক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রশ্রয় ছিল সাহেদের প্রতি। অন্যদিকে শারমিন দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের নেত্রীও ছিলেন।

করোনা মহামারির আগে অবৈধ ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম কয়েকটি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন আওয়ামী লীগ সরকার শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া শারমিন জাহানের ব্যাবসায়িক অংশীদার নজরদারিতে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন উপকমিটিতে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদীরাও রয়েছেন নজরদারিতে। দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযান আরো বিস্তৃত হবে। স্বাস্থ্য ছাড়াও অন্যান্য খাতের অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের বিষয়ে সতর্ক সরকার। তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে বলেন, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, অনিয়মে জড়িত আমরা যাকেই পাচ্ছি এবং যেখানেই পাচ্ছি তাকে ধরছি।’ তিনি সংসদে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতিবাজ কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্নীতিবাজরা সবাই নজরদারিতে আছে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শারমিন জাহান গ্রেপ্তার হয়েছেন। আওয়ামী লীগের আরো যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাঁদের কী হবে? জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি দুর্নীতি করে তারাও সময়মতো ধরা পড়বে। কেউ বাদ যাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, “দুর্নীতি করতে গেলে ‘পলিটিক্যাল ক্লাউট’ লাগে। তাঁরা (রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শারমিন জাহান) আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। তাঁদের দুর্নীতি দিবালোকের মতো স্পষ্ট, মামলা হয়েছে। সরকার ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁদের ধরেছে। না ধরে উপায় ছিল না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারের উচ্চ মহলে আনুকূল্য পাওয়া ঠিকাদার জি কে শামীম গ্রেপ্তার হন। অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এনবিআর ও দুদক দুর্নীতির খোঁজে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর