,



মাহবুব কবীর মিলনের বদলি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কেন হৈচৈ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শাস্তি দেওয়া না হলে বাংলাদেশে কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হলে তাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনাই হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন যখন গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক পোস্টে জানালেন তাঁকে ওএসডি করা হয়েছে, তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা।

এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত তাঁর ওই পোস্টের ব্যাপারে ৩৫ হাজার প্রতিক্রিয়া হয়েছে, ছয় হাজারের মতো মন্তব্য পড়েছে এবং পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে ছয় হাজার বারেরও বেশি।

মাহবুব কবীরকে হঠাৎ করে ওএসডি করার পেছনে ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, নানা ধরনের ‘তত্ত্ব’ দেওয়া হচ্ছে, তেমনি তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে সৎ এবং দক্ষ কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়বেন কি -না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ফেসবুকে কিছু প্রতিক্রিয়া 
আরিফ আর হোসেন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উনি যে মন্ত্রণালয়েই গেছেন, আগাছা সাফ করে সেই মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।’ ‘উনার জন্য আমার একটুও মন খারাপ লাগছে না, ট্রাস্ট মি। বরং খারাপ লাগছে সেইসব তরুণদের জন্য যারা আজকে পলিসি মেকারের চেয়ারে বসতে পারার পরেও, ভালো কাজ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলল।’

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহবুব কবীর মিলনকে নিয়ে কথাবার্তা কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়নি। রেল মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর নেওয়া কিছু পদক্ষেপ জন-বান্ধব বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

টিকিট কেনায় এনআইডির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, অনলাইনে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং রেল বিভাগের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে ফটো বা ভিডিও যুক্ত করে অভিযোগ প্রদানের ব্যবস্থা চালু করার পর যাত্রীদের জীবন অনেক সহজ হয়েছে বলে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।

গত ২৫শে মার্চ মিলনকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

২০১৭ সাল থেকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাজ করার সময় খাদ্যে মাত্রারিক্ত বিষাক্ত ফর্মালিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মাহবুবু কবীর। সেসব পদক্ষেপ ওই  সময় প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পাশাপাশি, খাদ্যমান পরীক্ষা নানা ধরনের আজগুবি দাবি করে প্রক্রিয়াজাত খাবারের লেবেলিং এবং বিজ্ঞাপন তৈরির পথ ওই সংস্থাটি বন্ধ করে দেয়।

শরিফুল হাসান নামের একজন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দেখেন, একজন মানুষ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে যোগ দিয়ে রীতিমত যুদ্ধ শুরু করলেন। এরপর তাঁকে সরিয়ে রেলে দেওয়া হলো। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বেশ কয়েকদিন আগে  একটি স্বপ্নের কথা বললেন মাহবুব কবীর। ১০ জন কর্মকর্তা  নিয়ে তিন মাসে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুমতি চাইলেন। এই চাওয়াই কী তবে কাল হলো!’

গত ২৭ জুলাই ফেসবুক লাইভে একটি সাক্ষাৎকার দেন মাহবুব কবীর মিলন। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটনের জন্য তিনি বিশেষ সেল গঠনের পরামর্শ দেন।

সাক্ষাৎকারে মিলন বলেন, ‘আমি যদি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতাম তবে বলতাম, স্যার আমাকে ১০ জন অফিসার দিন। এঁদেরকে আমি পছন্দ করে নেব, এদের নিয়ে আমি একটি  উইং করব। মানুষের চোখের পানি দূর করার জন্য সব মন্ত্রণালয়, সব দপ্তর, সব অধিদপ্তরের বিষয়গুলো অ্যাড্রেস করব আমরা এই ১০ জন।’

এই কাজে ব্যর্থ হলে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেওয়ার কথাও বলেন ওই ভিডিওতে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের ফেসবুকে কর্মক্ষেত্রে বিপ্লব আনার কথা বলা, কিংবা দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে খোলাখুলিভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোয় চাকরি বিধির লঙ্ঘন হয় কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব কবীর মিলন বলেন, দুর্নীতি দমনের প্রসঙ্গে আলোচনার সময় তিনি শুধু তাঁর মত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আবেগপ্রবণ হয়েই হয়তো কিছু কথা বলে ফেলেছি। হয়তো কথাগুলো ওখানে, ওভাবে বলা ঠিক হয়নি।”

ওএসডি করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি মিলন। শুধু এটুকুই বলেছেন যে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর