,



অক্টোবর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায় ইসি

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নতুন করে ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ ৩০৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে আগামী অক্টোবর থেকে ভোটগ্রহণ করতে চায় কমিশন।

এ লক্ষ্যে আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে।

এতে করোনার কারণে স্থগিত ১১৫টি এবং অপসারণ, পদত্যাগ, মৃত্যু ও মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নির্বাচন উপযোগী ১৮৭টি জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এছাড়া এ বৈঠকে জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৫টি আসনে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হতে পারে। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কতদিন স্থগিত রাখা যাবে।

এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা স্যার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অক্টোরব থেকে যেকোনো সময়ে নির্বাচন আয়োজন ও সেপ্টেম্বরে তফসিল হতে পারে। তবে বিষয়টি কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ৬৩তম সভায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না- এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। আজ কমিশনের ৬৭তম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সভায় জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নির্বাচন এজেন্ডাভুক্ত রয়েছে।

এজেন্ডা অনুযায়ী কার্যপত্রও কমিশনে তোলা হচ্ছে। এতে স্থগিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ ১১৫টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ন্যূনতম ১০ দিন আগে তারিখ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

করোনা সংক্রমণ এবং অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় এ সিটি কর্পোরেশনে ৫ আগস্টের আগে নির্বাচন আয়োজন করা হবে না বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় ইসি। আজ অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, জনপ্রতিনিধি অপসারণ, পদত্যাগ, মৃত্যু ও মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বর্তমানে ১৮৭টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপযোগী হয়েছে। এর মধ্যে পদত্যাগ ও অপসারণের কারণে ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতে চেয়ারম্যান, ৯টি সাধারণ সদস্য ও ৩টিতে সংরক্ষিত সদস্য পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে ৪৭টি জেলার ১১১টি উপজেলার ১৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদ শূন্য হয়েছে।

এসব ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২৮টি চেয়ারম্যান, ৯৭টি সাধারণ সদস্য ও ১৮টি সংরক্ষিত সদস্য পদে উপনির্বাচন করতে হবে। কাউন্সিলর মারা যাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচন রয়েছে। রাজৈর, মধুখালী ও বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হয়েছে।

এ তিনটি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। মির্জাপুর ও কালাই উপজেলায় মেয়র ও হাতিয়া উপজেলায় একটি পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে ৭টি জেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ, কুমিল্লার একটি উপজেলার মেয়াদ আগেই শেষ হওয়ায় সেগুলোতেও ভোট করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনে নির্বাচন : ইসি সূত্র জানায়, সংবিধানের উল্লিখিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনে ভোটগ্রহণ করবে ইসি। আসনগুলো হল- পাবনা-৪, ঢাকা-৫, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮ ও নওগাঁ-৬।

এর মধ্যে পাবনা-৪ আসনে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোট গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা আছে। আর ঢাকা-৫ আসনে ১ নভেম্বর, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৯ ডিসেম্বর, ঢাকা-১৮ আসনে ৪ জানুয়ারি ও নওগাঁ-৬ আসনে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট গ্রহণের সময় রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর