,



বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৪১৭ প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৪১৭ প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এর মধ্যে তৈরী পোশাকখাতের প্রতিষ্ঠান ৩১২টি। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের বিভিন্ন সময়ের তদন্তে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত পাঁচ বছর থেকে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে বার বার তাগাদা দিলেও পাওনা রাজস্বের অতি সামান্য পরিশোধ করেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দিচ্ছি কথাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার মামলা করে বছরের পর বছর আইনী মারপ্যাচে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া স্থগিত করে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কবে মামলা নিস্পত্তি হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার হিসাবে শওকত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর বকেয়া আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি নিয়মিত আদায়েও জোর দিয়েছেন। বন্ডখাতে পাওনা রাজস্ব আদায়ে এরই মধ্যে একগুচ্ছ কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বন্ড দূর্নীতিবাজ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১৭টি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করেছেন। এসব টাস্কফোর্স কমিটি বকেয়া আদায়েও পদক্ষেপ  নেবে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনার শওকত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্ডখাতের বকেয়া আদায় করা সম্ভব হলে এনবিআরের মোট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বার বার তাগাদা দেয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান অতি সামান্য দিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এক টাকাও দেয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান মামলা করেছে। মামলা শেষ না হলে বকেয়া আদায়ে এনবিআর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘বকেয়া আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বন্ড দুর্নীতি বন্ধেও জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করছি এতে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের বন্ডখাতে রাজস্ব আদায় বাড়বে।’

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে বন্ডখাতে বকেয়া আদায়ে  সক্ষম হলে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত জানিয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যন মো. মোশারররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানের বন্ড দুর্নীতি চিহ্নিত হওয়ার পর দশ বছরও কেটে গেছে বকেয়া পরিশোধ করছে না। অনেক অসাধু প্রতিষ্ঠান মামলা করে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া স্থগিত করে রেখেছে। কবে মামলা নিষ্পত্তি হবে আর কবে বকেয়া আদায় হবে তা কেউ জানে না।’

কর্মকৌশলের মধ্যে বন্ডখাতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের লোকবল বাড়ানো কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনী দূর্বলতা দূর করতেও বলা হয়েছে। বেশি বেশি অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার রপ্তানীমুখি শিল্পের স্বার্থে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য বন্ড সুবিধার নামে শুল্কমূক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দিয়েছে। এক্ষেত্রে শর্ত আছে আমদানিকৃত কাঁচামালের সবটা ব্যবহার করতে হবে। এদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণে পণ্য এনে উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছে। এভাবে অবৈধ ব্যবসা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সকল নিয়মকানুন মেনে যে সব ব্যবসায়ীরা উৎপাদন করছে তারা অসম প্রতিযোগতায় পথে বসছে। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের বিভিন্ন সময়ের তদন্তে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

দেশব্যাপি ছড়িয়ে থাকা ১০ হাজারের বেশি বন্ডেড ওয়্যার হাউসের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আনছে ব্যবসায়ীরা।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর