,



বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ সৌহার্দ্যপূর্ণ: ওবায়দুল কাদের

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা এদেশে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস ও ধর্মচর্চা করে আসছে। সমকালীন বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন বাংলাদেশ। এখানে মসজিদ এবং পূজামণ্ডপ পাশাপাশি, এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। বিপদে-আপদে সহযোগী আর সহমর্মী হয়। আবহমানকাল থেকেই এ চর্চা হয়ে আসছে এই বদ্বীপ জনপদে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ধার্মিক মানেই পরমতসহিষ্ণুতা, কথায় এবং আচরণে বিনম্র এবং উদার। ধর্মানুশীলন মানুষের মনের জানালা খুলে দেয়। জগতকে চেনার সুযোগ করে দেয়। অথচ ধর্মের নামে আজকাল কিছু বিভ্রান্ত মানুষের অপকর্ম আমাদের ব্যথিত করে। অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িকতার স্থান পৃথিবীর কোনো ধর্মই নেই, ধর্মের নামে যারা অধর্ম চর্চা করে, ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় এসব তাদের হাতিয়ার। যারা সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ কিংবা উগ্রতা চর্চা করে প্রকৃতপক্ষে তারা ধর্মের মূল শিক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের উন্নয়নে যেমনি প্রয়োজন আভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা, তেমনি প্রয়োজন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই প্রতিবেশীর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক রেখে এগুতে পারে না। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ ভারত তথা শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি সরকারের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। দুই দেশের সম্পর্ক একাত্তরের রক্তের রাখি বন্ধনে আবদ্ধ। বর্তমানে এ বন্ধুত্ব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।

কাদের বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া থাকলে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সহজে সমাধান সম্ভব, যার প্রমাণ বাংলাদেশ ও ভারত। দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা, শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময় সমাধান দু’দেশের পারস্পরিক আস্থাকে বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশের সমুদ্র জয়ের মামলায় ভারত আপিল না করে বন্ধুসুলভ যে আচরণ করেছে তা সম্পর্কের সূত্রকে করেছে আরও সুদৃঢ়। আস্থা ও বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে তার মাধ্যমে তিস্তা সমস্যা ও অন্যান্য নদীর পানি বন্টনের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সকলের সমান সুযোগ এবং অধিকার রয়েছে। আপনারা নিজেদের মাইনোরিটি ভাববেন না। এ শব্দটি আপনাদের মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখবে। আপনারা দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে‌। নাগরিক হিসেবে একজন মুসলমানের রাষ্ট্রের প্রতি যে অধিকার আপনার সমান অধিকার। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অংশগ্রহণ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কথায় এবং কাজে এ কথা বিশ্বাস করে। আর তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে চাই এদেশের সমৃদ্ধির সোপান। মাঝেমাঝে বিচ্ছিন্নভাবে একটি অশুভ চক্র একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যে আঘাত হানার অপচেষ্টা করে। ভাবি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই শেখ হাসিনা যতদিন আছেন আপনাদের কোন ভয় নেই।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আপনারা এই দেশের উন্নয়নের অংশীদার। আমরা একই আকাশের নিচে বাস করি। অভিন্ন বাতাসে শ্বাস গ্রহণ করি। অভিন্ন মেঘমালা থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে আমরা ফসল ফলায়। তাই বলব, বিভেদের কৃত্রিম প্রাচীর যারা গড়তে অপচেষ্টা করে তারা সফল হবে না কোনদিন। এদেশ সৌহার্দের দেশ, এদেশে প্রতিবেশীর মাঝে সহযোগিতার যে সম্পর্ক তা সামাজিক বন্ধন থেকে উৎসারিত। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র হচ্ছে সামাজিক সখ্য এবং ঐক্য। আমরা এ একতা ধরে রেখেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। গড়ে তুলতে চাই দেশরত্ন শেখ হাসিনার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, প্রতিবছর দেশে শারদীয় দুর্গোৎসবসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের সকল উৎসব যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। গতবছর সারাদেশে ৩২ হাজার ৩২৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছিল, প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়ছে। শেখ হাসিনা সরকার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে আসছে।

সেতু মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কি নির্যাতন নেমে এসেছিল তা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। যে নির্যাতন একাত্তরে পাক-হানাদার দের নির্যাতনকেই মনে করিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলো। সুযোগ পেলেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আঘাত হানে নানা কৌশলে। তাদের অপচেষ্টা এখনো চলছে, তারা এখনো সক্রিয়। বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। থাকতে হবে সচেতন।

কাদের বলেন, আগস্ট মানেই আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্ট অভিন্ন ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। এর কুশীলবরাও অভিন্ন। ১৫ আগস্ট প্রাইম টার্গেট ছিল আমাদের জাতির পিতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর একুশে আগস্টের প্রাইম টার্গেট ছিল আমাদের আস্থার বাতিঘর উন্নয়নের স্থপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এদেশে যারা হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেছে ও লালন করেছে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে বড় করে তুলেছে তারাই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জীবন এবং সম্পদের ওপর বার বার আঘাত হেনেছে। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরম বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে। উন্নয়ন, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে আসুন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর