,



কবে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনায় নাস্তানাবুদ গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও এই অবস্থা বেশ নাজুক। এমতবস্থায় বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঝুলে আছে প্রায় উচ্চ মাধ্যমিক ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। বারবার পিছিয়ে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নেয়া হবে না। কিন্তু প্রতিনিয়ত যেহারে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি কমার কোনো লক্ষণ নেই।

বরং দেশে গতকাল রোববার করোনায় মৃত্যু হয় ৩২ জনের। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪ জন। এতো পরিমাণ রোগী শনাক্ত হয়েছেন মাত্র ১০ হাজার ১৮টি নমুনা পরীক্ষায়। এ থেকে বোঝা যায় করোনা পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। যেহেতু সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে বারবার পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কথা বলা হয়েছে। সেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহসাই খুলছে না ধরেই নেয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কী হবে এটা বলা মুশকিল। তবে আমরাও চাই দ্রুত খুলুক। তবে আমরা একটু আশার আলো দেখছি কোনো না কোনো দেশ হয়ত দ্রুতই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলবে। এখন যে অবস্থা চলছে এভাবে চললে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া সম্ভব হবে না। ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি খুলে দেয়া হয় তাহলে হল খুলে দিতে হবে। আর এসব হলে দ্বিগুণ করে শিক্ষার্থী থাকে। গণরুমের অবস্থা তো আরো ভয়াবহ। যার ফলে একটা বিপদের শঙ্কা থেকেই যায়। আমাদের অনলাইন ক্লাস চলছে। এটা চলতে থাকবে। করোনার সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার চিন্তা করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিত বলেন, একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে আমরা এগুচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে কবে স্কুল খুলবে বলা মুশকিল। আর যেহেতু বাচ্চারা এখানে যায় তাদের নিয়ে ঝুঁকি নেয়াটাও ঠিক হবে না আমাদের। এই বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, প্রায় গোটা বিশ্বই একই ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। আমি শুধু এটুকুই বলবো, পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখছি। পরিস্থিতি বুঝেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা দেশের ভবিষ্যৎ, শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, করোনার কারণে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, গোটা জাতি যেভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, সরকার তা হারে হারে উপলব্ধি করছে। অনেক কিছু খুলে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও যথাসময়ে খুলে দেয়া হবে। তাই হতাশ না হয়ে করোনাকে বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর