,



ওলামা লীগকে এড়িয়ে চলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

আওয়ামী ওলামা লীগের নেতাদের এড়িয়ে চলছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ফোন পর্যন্ত ধরছেন না অনেকেই। যারা ফোন ধরছেন তারাও অল্প কথার পরই কেটে দিচ্ছেন। কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী নেতা পরামর্শ দিচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করতে। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরও ফোন ধরছেন না। একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ওলামা লীগের শীর্ষ নেতারা। ২২শে মে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ওলামা লীগ না রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই পরিস্থিতি এমন হয়েছে বলে জানান ওলামা লীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী। তিনি বলেন, একসময় আমাদের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তারা আমাদের অনেক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন। এখন আর কেউ ফোন ধরছেন না। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট বৈঠক করতে চেয়েছি। তিনি ফোন ধরেননি। হয়তো অনেক কাজে ব্যস্ত আছেন। রমজানের যে কোনো সময় আমরা তার সঙ্গে বৈঠক করতে পারবো বলে আশা করি। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বরাবর আমরা স্বারকলিপি দাখিল করবো। এদিকে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জানানো হয় আওয়ামী ওলামা লীগ নামে কোনো সংগঠন চালানোর পক্ষে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এই সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ওলামা লীগ বলে আর কিছু নেই। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো ধরনের সম্পর্কও নেই। এদিকে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওইদিন বৈঠকে জানান, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ওলামা লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে না থাকলেও কয়েকজন মন্ত্রী ও দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা আওয়ামী ওলামা লীগ নামে দুটি গ্রুপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে উভয় গ্রুপের কিছু কর্মসূচিতে দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। ওলামা লীগের একটি অংশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবিদার যথাক্রমে মাওলানা মুহাম্মদ আখতার হোসাইন বুখারী ও মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরি। অপর অংশের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ওলামা লীগের দুই অংশ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এর আগের মাসে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি ইলিয়াস বিন হেলালীকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এসব হামলার পেছনে সংগঠনের কোন্দলকেই দায়ী করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিকে ওলামা লীগ আওয়ামী লীগে থাকছে না এমন বক্তব্যর পর ওলামা লীগের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ওলামা লীগ এদেশের জনগণ ও স্বাধীনতার মতই ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ। ওলামা লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুগত্যে পরিচালিত দল। ওলামা লীগ বাদ দিয়ে নতুন সংগঠন করা মানে স্ব-বিরোধী বক্তব্য- এবং বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা। ওলামা লীগে শুদ্ধিকরণ চলতে পারে কিন্তু বাদ নয়। মাথা ব্যথা বলে মাথাই কেটে ফেলা নয়। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও নেতৃত্বেই আওয়ামী ওলামা লীগ সারা দেশব্যাপী সুসংগঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অনেক ভালোবাসেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ১৯৬৯ সালে আওয়ামী ওলামা পার্টি গঠন করেন। যা ১৯৯৬ সালে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং ওলামা লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শুধু ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনই নয় বরং তারও অনেক ঊর্র্ধ্বে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর