,



চা উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কৃষিভিত্তিক শ্রমঘন শিল্প হিসেবে দেশে চা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প দ্রব্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসকরণের মাধ্যমে চা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষের দিকেই। ক্রমান্বয়ে চায়ের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় উৎপাদন বাড়ছে না।

এবার দেশের চাহিদা মিটিয়ে চা রপ্তানির চিন্তা করছে সরকার। সে উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চা বাগানের সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সরকারি বাসভবনে চা শিল্পের উন্নয়ন শীর্ষক এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

টি বোর্ডের ‘উন্নয়নের পথনকশা’ বাস্তবায়নে চা বাগান মালিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৪ জুন থেকে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসেবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। চা শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং চা বাগানের মালিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দিন দিন চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে। সে কারণে প্রত্যাশিত রপ্তানি বাড়ছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চায়ের চাহিদা বাড়ছে।

বিদেশেও বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের চাহিদা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে চা রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে। এক সময় চা বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিপণ্য ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের রিভিন্ন দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে মালিকদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। দেশে চা বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়নে সরকার উন্নয়নের পথনকশা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন চলছে।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে আন্তরিকার সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। উল্লেখ্য, দেশে ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪১.৬৯ একর জমিতে ১৬৭টি চা বাগানে ২০১৯ সালে ৯৬.০৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এ সময় অভ্যন্তরীণ চায়ের চাহিদা ছিল ৯৫.২০ মিলিয়ন কেজি।

বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ থেকে ব্ল্যাক এবং গ্রিন- দুই ধরনের চা রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ব্ল্যাক চা রপ্তানি হয় বেশি। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চা রপ্তানি করে ১.৫১ মিলিয়ন বা ১৫ লাখ ১০ হাজার কেজি। এর রপ্তানি মূল্য দাঁড়ায় ২১০ দশমিক ৩২ মিলিয়ন টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ৬ লাখ কেজি চা রপ্তানি করে। যার রপ্তানি মূল্য ১৯৪ দশমিক ২৬ মিলিয়ন টাকা।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের ২০৩ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন টাকার ৬ লাখ ৫০ হাজার কেজি, ২০১৭ সালে ৩৭৭ দশমিক ২৯ মিলিয়ন টাকার ২৫ লাখ ৬০ হাজার কেজি, ২০১৬ সালে ১৪০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন টাকার ৬ লাখ ২০ হাজার কেজি এবং ২০১৫ সালে ১০৫ দশমিক ১৩ মিলিয়ন টাকার ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার চা রপ্তানি করে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সচিব কুলপ্রদীপ চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়। ওই বছরে অভ্যন্তরীণ চায়ের চাহিদা ৯৫ দশমিক ২০ মিলিয়ন কেজি। উৎপাদন হয় ৯৬ দশমিক ০৭ মিলিয়ন কেজি চা। ফলে ২০২০ সালে বিগত বছরগুলোর তুলনায় চা রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী চা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- এমএম ইস্পাহানী, আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, হালদা ভ্যালি টি এস্টেট লিমিটেড, হাজী আহমদ ব্রাদার্স, শ ওয়ালেস বাংলাদেশ, মনির শাহ অ্যান্ড সন্স, মেঘনা টি কোম্পানি, দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর