,



করোনায় চাকরি হারানো আরিফের সহস্রাধিক হাঁস মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুর্বৃত্তের দেয়া বিষে সহস্রাধিক হাঁস মারা গেছে করোনায় চাকরি হারানো খামারি আরিফের। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর এলাকার দূর্গাপুর গ্রামের দরগার ডোবার পাড়ে।

সোমবার সকাল থেকে একের পর এক মরতে মরতে বিকালে পর্যন্ত প্রায় এক হাজারেরও অধিক হাঁস মারা গেছে।

খামারের মালিক পক্ষ ধারণা করছে, ৪৯ দিন বয়সী হাঁসের খামারে রাতের কোনো এক সময় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

খামারের উদ্যোক্তা আরিফ জানান, করোনা সংকটে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। নরসিংদীর পাঁচদনাতে এক মোজা কারখানায় তিনি চাকরি করতেন। করোনা সংকটে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে খামার করার কথা ভাবেন। খাকি ক্যাম্বেল জাতের ১ হাজার ১০০ হাঁসের ছানা নিয়ে গত ৮ জুলাই কাকা শাহজামাল ও ভাই আল আমিনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় বাড়ির পাশেই ডোবার পাড় এলাকায় হাঁসের খামার গড়ে তুলেন।

দেড় মাস ধরে তারা যত্ন নিয়ে যৌথ খামারকে এগিয়ে নিচ্ছেন। রোববার রাতে খামারের হাঁসগুলোকে খাবার খাইয়ে যথারীতি বাড়িতে চলে যান তারা। সকালে খামারে গিয়ে তারা হতবাক হয়ে যান। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েকশ হাঁস মরে পড়ে আছে। আস্তে আস্তে মৃতের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হাজার ছাড়িয়ে যায়।

মৃত্যুর কারণ জানতে তারা একটি মৃত, দুটো জীবিত হাঁস নিয়ে ছুটেন মধুপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সেখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে মৃত হাঁস চিরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। পরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কার্যালয়ের দুইজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি খামার পরিদর্শন করে বাকি হাঁসগুলোও বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বলে জানান তারা।

মধুপুর উপজেলা ভ্যাটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (বিএফএ) ওবাইদুল্লাহ লিটন জানান, খামারি আরিফ হাঁস নিয়ে হাসপাতালে আসলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশীদের উপস্থিতিতে মৃত হাঁস চিরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়।

মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) ছানোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, অন্যরকম কিছু পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর