,



আজ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী: দেশীয় শিল্প রক্ষায় ১৪০০ পণ্য সেবায় সম্পূরক শুল্ক থাকছে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ এবং ব্যক্তিগত ১১তম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। একাধারে ৯ বার বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নতুন বাজেটে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পণ্য ও সেবায় সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখছে সরকার। এবার বাজেটের শিরোনাম  দেওয়া হয়েছে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের’।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রস্তাব করা হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আসবে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। মোট রাজস্বে চালকের আসনে উঠে এসেছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক)। আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৮ হাজার কোটি টাকা। আর আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তা ছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে আগামী বাজেটে জিডিপির (মোট দেশজ উত্পাদন) আকার ধরা হয়েছে ২২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে বাজেট ঘাটতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় আসছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পণ্য ও সেবায় সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখছে সরকার। যদিও নতুন ভ্যাট আইনে ১৭০টি আমদানি পণ্য ছাড়া ১ এক হাজার ১৯২ পণ্যটি থেকে সম্পূরক শুল্ক বিলুপ্তের বিধান রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজস্ব কাঠামো নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় শুল্ক কাঠামো প্রায় আগের মতোই রাখা হচ্ছে। যেসব পণ্য প্রায় আমদানি হয়ই না বা নামমাত্র আমদানি হয়, এমন প্রায় ১৫০টি পণ্য থেকে সম্পূরক শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   সূত্র জানায়, ধূমপান নিরুত্সাহিত করতে সিগারেটের খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্কহার বৃদ্ধি করা হতে পারে। ফিল্টার যুক্ত বা ফিল্টার বিযুক্ত বিড়ি খাতে সুনির্দিষ্ট মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ে নতুন একটি সাধারণ আদেশ জারি করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন মানের সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হচ্ছে। এতে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। এনার্জি ড্রিঙ্ক, কোমল পানীয়, ফলের রস, তামাক যুক্ত সিগারেট, জর্দা, গুল, সিগারেট পেপার, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী, সিরামিক সামগ্রীসহ প্রায় ৩৪টি এইচএস কোডযুক্ত পণ্যে সরবরাহ পর্যায়ে বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে।    অন্যদিকে অর্থবছরের বাজেটে কিছু পণ্যের সম্পূরক শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৬০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে এমন পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-পাথর, মার্বেল পাথর, অনুজ্জ্বল সিরামিক মোজাইক, উজ্জ্বল সিরামিক প্রস্তর ফলক, দেয়ালের টাইলস, ওয়াশ বেসিন, চিনামাটির তৈরি টেবিল ওয়্যার, কিচেন ওয়্যার, সিরামিকের তৈরি টেবিল, মসৃণ হীরা, ভ্যাট রেজিস্টার্ড এয়ার কন্ডিশনার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত এবং অন্যান্য আমদানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য। তা ছাড়া স্মার্টকার্ড, সাউন্ড রেকর্ডিং উত্পাদনের যন্ত্রাংশ, ইন্ডিকেটর পাইলট ল্যাম্প, ল্যাম্প কার্বন, ব্যাটারি কার্বন, প্লেয়িং কার্ড ১০ শতাংশ কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।   প্রতিবারের মতো এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাত্ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ওই দিন বাজেট বক্তৃতা; বাজেটের সংক্ষিপ্তসার; বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি; সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি; মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি; বিকশিত শিশু : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ; ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : হালচিত্র ২০১৭; জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা; জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন; সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি; বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭; মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিগুলো (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন); বিস্তারিত বাজেট (উন্নয়ন); মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্তসার ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ হতে সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলি-২০১৬-১৭ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে। বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট .িসড়ভ.মড়া.নফ-এ বাজেটের সব তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন এবং দেশ বা বিদেশ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে। ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিঙ্ক www.bangladesh. gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd,www. bdpressinform.portal.gov.bd, www.pmo.gov.bd এবং বেসরকারি ওয়েবসাইট লিঙ্ক www. bdnews24.com ঠিকানায় বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন : প্রথা অনুযায়ী বাজেট উপস্থাপনের পরদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন অর্থমন্ত্রী। শুক্রবার বিকেল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হবে এ সংবাদ সম্মেলন, যেখানে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর