,



শিম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শীত মৌসুমে অন্যতম সুস্বাদু সবজি শিম। বিক্রি হয় প্রচুর। দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই কৃষকরা এ মৌসুমে শিম চাষে বেশি আগ্রহী হন। এতে কৃষকের আর্থিক লাভে ভাগ্য বদল হচ্ছে। নোয়াখালীর উপকূলীয় সূবর্ণচরে শিম চাষে কৃষকরা সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

১০ বছর আগে পৈতৃক নিবাস ভোলা জেলার চর ফ্যাশন এলাকা ছেড়ে স্ত্রীর আর দুই সন্তান নিয়ে চলে আসেন নোয়াখালী। বসবাস শুরু করেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউপির চর বায়েজিদ গ্রামে।

বলছি কৃষক মো. সালাউদ্দিন মিয়ার কথা। স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে কাটতো মো. সালাউদ্দিন মিয়ার সংসার। একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে এখন অভাব ছুটি নিয়ে সেখানে ধরা দিয়েছে সুখ সমৃদ্ধির  ছোঁয়া। সালাউদ্দিনের সবজি খামারে কাজ করে এখন জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে আরো পাঁচ পরিবারের।

সরেজমিনে মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর আগে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে উদ্যোগ নেন শিম চাষের। মাত্র তিন মাসে সফলতার দেখা পান সালাহ উদ্দিন। ১৩ হাজার টাকা পূঁজি নিয়ে তিন মাসের মাথায় লাভ গুনেন দেড় লাখ টাকা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এবার ২ একর জমিতে শিম চাষে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা । ভালো পরিবেশ পেলে বিক্রি হবে ২ লাখ টাকার  বেশি।

একই এলাকার অপর শিম চাষি মো. জামাল ফরায়েজি ও আলী আহম্মদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, শিম চাষের ব্যাপারে তাদের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের মতো করে চাষ করছেন। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভালো পরামর্শ পেলে আরো ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হতো। এছাড়া শিমের বাজার দর নিয়ে সরকারি তালিকা নির্ধারণের দাবি এ চাষিদের।

উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউপির আরেক শিম চাষি মো. শাহাদাৎ হোসেন মুরাদ জানান, এ বছর পরিবেশ অনুকূলে থাকায় প্রতি মণ শিম এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি করায় প্রায় চারগুণ লাভ হচ্ছে তাদের। তবে মাঝে মাঝে সাদা মাছির আক্রমণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ বিষয়ে সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

সূবর্ণচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম শিমের চাষ হয়েছে  ১০০ হেক্টর জমিতে। নোয়াখালীতে মোটামুটি আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, মাটির গুণগত মান ভালো এবং নোয়াখালীর মানুষের পরিশ্রমের কারণে তারা কৃষিতে ভালো ফলন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর