,



ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২০’ উপলক্ষ্যে আমি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কমচারীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। অগ্নিনির্বাপণ, অগ্নিপ্রতিরোধ, উদ্ধার ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

অগ্নিনির্বাপণ, আহতদের সেবা প্রদান, মুমূর্ষু রোগী পরিবহন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ যে-কোনো মানবসৃষ্ট দুর্যোগে জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম সাড়াদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হিসেবে সবসময় জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান। তাদের উপস্থিতি আহত ও দুর্ঘটনায় আটকে পড়া মানুষকে বাঁচার সাহস যোগায়। শিল্পায়ন ও নগরায়নের ব্যাপকতার ফলে দেশে দুর্ঘটনার হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন দুর্যোগে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় দেখা দিচ্ছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমি আশা করি।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন আয়োজন জনগণের সাথে এ বিভাগের কর্মীদের ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমি ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ – ২০২০’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচি সফল হোক – এ কামনা করি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯ নভেম্বর থেকে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২০’ উদ্‌যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি জরুরি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। ভূমিকম্প, অগ্নি দুর্ঘটনা, নৌযান দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ যে কোন মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। এ কারণে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী ও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে। আমরা ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ২০৬টি থেকে ইতোমধ্যে ৪৩৫টিতে উন্নীত করেছি। নির্মাণসম্পন্ন আরো বেশ কিছু ফায়ার স্টেশন চালুর অপেক্ষায় আছে। ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বিভাগের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারেও আমরা ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি।

আমি আশা করি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স –এর কর্মীরা নতুন উদ্যমে সাহস, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন করবেন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন।

আমি ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২০’-এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর