,



শেখ হাসিনা সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে দ্বিতীয় বছর পূর্ণ আজ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এতে চতুর্থবারের মতো ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্ণ হল।

সরকারের দ্বিতীয় বছরটা ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনসহ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঠাসা। মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস হানা দেয়ায় বিশ্বব্যাপী সব কিছু স্থবির হয়ে পড়ে। দেশে দেয়া হয় লকডাউন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেন।

করোনা মোকাবিলায় সরকার যুগোপযোগী সব পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাশাপাশি বাস্তবায়নও করে। লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া হয়। জরুরি ভিত্তিতে পোশাক শিল্পে প্রণোদনা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়।

করোনা মহামারির মধ্যেই বিজয়ের মাসে পদ্মাসেতু সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যমান হয়। ২৯ ডিসেম্বর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দরে ভিড়ে ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ নামের জাহাজ। করোনার মধ্যেও দেশে অবৈধ দখল ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছিল সরকার। নদীর তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রাজধানীর অবৈধ দোকান ও খাল উদ্ধারের তৎপরতায় নগরবাসীর মধ্যে ফিরে আসে স্বস্তি।

এদিকে মার্চ মাসে খুলে দেয়া হয়েছে ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়েটির মূল অংশ। এ প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশ তেঘরিয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজেও ফিরেছে পূর্ণ গতি।

করোনার মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে একশ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। পদ্মাসেতুতে রেললিঙ্ক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৮ শতাংশ। একইভাবে চলছে মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের প্রথম অংশ দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজেও গতি ফিরেছে। এরই মধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ হচ্ছে প্রায় ৪ কিলোমিটারের বঙ্গবন্ধু টানেল। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের কাজও বেশ দ্রুত এগুচ্ছে।

শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশ। করোনার সময়ে দেশে ডিজিটাল সেবায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ডিজিটাল না হলে বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হতো। মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

৩০ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। করোনার মধ্যে দেশের মানুষের কল্যাণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে তা ব্যস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।

এতো কিছু মধ্যেও লম্বা ধকল কাটিয়ে ভালো অবস্থানে ফিরেছে দেশের উভয় পুঁজিবাজার। ২০২১ সালের প্রথম সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করছে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভারত থেকে তথা এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশ ওপরে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এটি বাঙালি জাতির জন্য সুখের ও গর্বের।

করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে এমন শীর্ষ ২০ দেশের তালিকা সংবলিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ। এই শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ অনুসারে, বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

এদিকে দেশ ও সরকারের সুনাম ধরে রাখতে সরকার ছিল কঠোর। সাহেদ, সাবরিনা, মালেক ও পিকে হালদারের মতো আর্থিক জালিয়াতদের কঠোর হস্তে দমন করেছে সরকার। করোনার ত্রাণ আত্মসাৎ করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মজুদদারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দেশে হঠাৎ করেই ধর্ষণ খুব মারাত্মক ব্যাধি আকারে দেখা দেয়। এজন্য ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।

অন্যদিকে বন্যা ও আম্ফানের প্রভাবে নদীভাঙন খুব খারাপ পরিস্থিতির দিকে মোড় নেয়। ৩২টি জেলায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সরকার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানও সরকার সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। সারাদেশে গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাড়ি করে দেয়া শুরু করেছে সরকার।

করোনা মোকাবিলা করে শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বছরের শুরুতেই পৌঁছে দিয়েছে নতুন বই। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যও রয়েছে সরকারের।

এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারই  শুধু দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবে। তার হাত ধরে দেশের যে উন্নয়ন অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা অন্য কেউ করেনি। সব কিছুই সম্ভব  হয়েছে শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর