,



দেশীয় বাজারে ভারতীয় কমলায় চাষিরা হতাশ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের প্রত্যেকটি উপজেলায় কমলার চাষ হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জুড়ী উপজেলায়।

এখানকার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রূপাছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুলসহ পাহাড়ি এলাকায় চাষ হয় কমলা। দেশজুড়ে এই এলাকার কমলার বেশ সুনামও রয়েছে। তবে দেশীয় বাজারে ভারতীয় কমলা ঢুকে পড়ায় হতাশ চাষিরা।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৪২ হেক্টর জমিতে ১৯৩টি কমলাবাগান আছে। সবচেয়ে বেশি ৯১ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। বড়লেখায় ২৫ হেক্টর, কুলাউড়ায় ১৭ হেক্টর, সদরে ১ দশমিক ৫, শ্রীমঙ্গলে ৬, কমলগঞ্জে ১ ও রাজনগরে ০ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ হয়।

সম্প্রতি জুড়ী উপজেলার কয়েকটি কমলাবাগান ঘুরে দেখা যায়, বিক্রির জন্য বাগান থেকে পাকা কমলা সংগ্রহ করছেন চাষিরা। পরে বাড়ির উঠোনে এনে আকার অনুসারে বাছাই করছেন। এসব কমলা ঢাকা, ভৈরব, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর জন্য পাকা, আধা পাকা, ছোট ও বড়গুলো আলাদা আলাদা করে বাঁশের তৈরি খাঁচায় গুছিয়ে রাখছেন।

চাষিরা জানান, জুড়ীতে মূলত দুই ধরনের কমলার চাষ হয়। নাগপুরী ও খাসি। এখানে খাসি কমলার চাষ বেশি হয়। নাগপুরী কমলাগুলো আকারে বড়, খাসি তুলনামূলক ছোট।

কিন্তু দেশি কমলা বাজারজাত করার আগেই ভারতীয় কমলা বাজারে চলে আসে। এতে তারা সঠিক দামে কমলা বিক্রি করতে পারেন না।

কথা হয় উপজেলার লালছড়া এলাকার কমলা বাগানের মালিক জয়নুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবছর কমলার ফলন ভালো হয়নি। এরমধ্যে ভারতীয় কমলার কারণে আমরা সঠিক দাম পাইনি। যদি কমলা আমদানি বন্ধ করা যেত তাহলে আমরা লাভবান হতাম। এছাড়া, ভারতীয় কমলা মিষ্টি হওয়ায় চলে ভালো। কিন্তু সিলেটি কমলা একটু টক হওয়ায় অনেকে নিতে চায় না।’

স্থানীয় কমলা চাষি জাছির আহমদ বলেন, ‘আমাদের এই কমলা দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তাই ভারতীয় কমলা আমদানি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কমলা আমদানি বন্ধ করতে পারলে এদেশের কমলা চাষিরা ভালো লাভ করতে পারবেন। এবং কমলা চাষে তারা আরও আগ্রহী হবেন।’

চাষি মোরশেদ মিয়া বলেন, ‘আমাদের কমলাগুলো মিষ্টি হতে একটু লেট হয়। বাজারে তুলতে একটু সময় লাগে। এর আগে ভারতের কমলা আমাদের বাজারে চলে আসে, সে জন্য আমাদের কমলার দাম পাই না। এছাড়া, আমাদের কমলা কিছুটা টক স্বাদ আছে। কারণ আমরা কমলা মিষ্টি হওয়ার জন্য কোনো ধরনের ঔষধ স্প্রে করি না। সে জন্য কিছুটা টক থাকে।’

পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বাগানের গাছগুলোতে যা ফল ধরে, তার শতভাগ ফলই নিরাপদ। কারণ, চাষিরা এতে কোনো ধরনের মেডিসিন বা ফরমালিন দেন না। সে কারণে এগুলো একটু টক। কিন্তু এই টক কমলাগুলোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর বিশেষ করে ভারতীয় কমলা বাজারে আগে আসায় স্থানীয় কমলাগুলো কম দামে বিক্রি করতে হয়। সরকারের কাছে অনুরোধ, যাতে ভারতীয় কমলা আগে না আসে। এর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানাই।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী রাইজিংবিডিকে জানান, দেশে কমলা সংগ্রহের আগেই ভারতীয় কমলা বাজারে চলে আসে। ওদের কমলাটা আরেকটু আগাম। সেজন্য বেশ মুনাফার পাওয়ার জন্য আমাদের দেশের চাষিরা কাচা থাকতে কমলা তুলে একটু আগে বিক্রি করে দেয় । সেজন্য অনেকের কাছে কমলাগুলো টক মনে হয়। ক্ইতু দেশীয় কমলা স্বাস্থ‌্যের জন‌্য ভালো।তাই, সকলকে দেশীয় কমলা কেনার পরামর্শ দেই।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর