,



করিমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আওলাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল, অবাঞ্ছিত ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধাদের

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ এতদিন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদের নাম ছিল মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। তবে তিনিসহ সারা দেশের মোট ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭০তম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে ৫ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরোধীপক্ষ করিমগঞ্জের নেতৃস্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ বুধবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

তাঁরা বলছেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন। এটি অপরাধমূলক কাজ। কাজেই তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ও দলের শীর্ষপদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

এ সময় তাঁরা চেয়ারম্যান ও দলীয় পদ থেকে তাঁকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।

দুপুরে করিমগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা এ মানববন্ধনে যোগ দেন।

সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মাহবুব ইকবাল, রুস্তম আলী, ফজলুল হক, হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মো. ইসমাইল, হামিদুল হক, সিরাজুল হক, শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়া আবুল মনসুর সরকার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল আনসারি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবুল বাশার শামীম ভূঁইয়াসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

মানববন্ধন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

প্রসঙ্গত, নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের আরেকটি বড় অংশের বিরোধ রয়েছে। এসব নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান প্রায়শই প্রকাশ্য রূপ নেয়।

সম্প্রতি আহ্বায়ক আওলাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হওয়ায় তাঁর বিরোধীপক্ষ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এ ইস্যুতে তাঁকে কাবু করার চেষ্টায় মাঠে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিরোধীপক্ষ।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর