,



হিমেল হাওয়ায় শীতের কাঁপন কুয়াশার বিস্তার

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বাঘ পালানো মাঘ মাস’ শুরুর দিনেই কনকনে হাওয়ায় শীতের কাঁপন বেড়ে গেছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হিমেল হাওয়া আসছে হিমালয় পাদদেশ ছুঁয়ে। শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার বিস্তার। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছীতে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় রাত থেকে ভোর-সকালে তাপমাত্রা ছিল ৬.৫ থেকে ১০ ডিগ্রির আশপাশে।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে তথা উত্তর জনপদে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে কুয়াশার ঘোরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। দুঃসহ কষ্ট-দুর্ভোগে পড়েছে হতদরিদ্র, দিনমজুর, কৃষক-কৃষি শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষের। তাদের রুজি-রোজগারে ভাটা পড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো পুড়িয়ে শীতকষ্ট নিবারণের চেষ্টা করছে গরিবরা। শীতজনিত রোগব্যাধির প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকায়ও পারদ নেমে গেছে ১২.৩ ডিগ্রিতে। প্রায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রার সাথে দিনের বেলায়ও পারদ নিচের দিকে নামছে। আজ শনিবারও দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে দেশের কয়েক জায়গায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এরপর শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র ধরনের।

গতকাল উত্তর জনপদ ছাড়াও মধ্যাঞ্চলে ঢাকা বিভাগ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে রাতের বেলায় পারদ নেমে যায় ১০ ডিগ্রির নিচে। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সাথে কনকনে বাতাস ও কুয়াশা। দিনের তাপমাত্রাও হ্রাসের দিকে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪.৩ এবং দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৯ ডিগ্রি সে.।
আবহাওয়া বিভাগ জানায়, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর, চুয়াডাঙ্গাসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, সকালের দিকে অস্থায়ীভঅবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এরপরের ৫ দিনে বিক্ষিপ্ত হালকা বা গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের নদ-নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা জানান, সকালে নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত বুধবারও এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবারও তাপমাত্রা ছিল একই। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ ফেরদৌস মাহমুদ জানান, সকাল ৬ টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের আবহাওয়ার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সকালে ও রাতে দেখা যাচ্ছে ঘন কুয়াশা। এর সাথে রয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। বদলগাছী ছাড়াও নওগাঁ সদর, মহাদেবপুরসহ জেলার ১১ উপজেলায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় নিম্নগামী হয়ে পড়ছে তাপমাত্রা। সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়া কনকনে ঠান্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় বিকেল হলেই ঘন-কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি এবং তা অব্যাহত থাকছে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত।

এতে করে গরম কাপড়ের অভাবে চরম শীত কষ্টে ভুগছে দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র জানান, গতকাল জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও কয়েকদিন তাপমাত্রা নিম্নগামী থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর