,



জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পেরেছিলাম বলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন: প্রধানমন্ত্রী

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু মানুষের জন‌্য কাজ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারো কাছে মাথা নিচু করেননি। ভাষা আন্দোলন তিনিই প্রথম শুরু করেছিলেন।

রোববার (২১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ‌্যাভিনিউতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ‌্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পেরেছিলাম বলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারছি।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা, তার জীবন, আন্দোলন সম্পর্কে এ দেশের মানুষের জানা উচিত। আমরা দুই বোন যতটুকু পারি জানাবো। স্বাধীন বাংলাদেশে তাকে হত্যা করা হলো, ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হলো। স্বাধীনতার ঘোষক বানানো হলো আরেকজনকে। এমনও হলো, তার নাম নেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এ দেশের নিপীড়িত মানুষের ভাগ‌্য পরিবর্তন করবেন। তার স্বপ্ন ছিল এই দেশকে তিনি এমনভাবে গড়ে তুলবেন যাতে বিশ্বে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করতে চলতে পারে। ক্ষুধা দারিদ্র থেকে এ দেশের মানুষ মুক্তি পেতে পারে। এ দেশের মানুষ উন্নত সুন্দর জীবন পেতে পারে। মাত্র সাড়ে ৩ বছর তিনি সময় পেলেন। এই সময়ের মধ‌্যে তিনি যা করে দিয়ে গেছেন শুধু সেইগুলো অনুসরণ করলেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। একথা আজ প্রমাণিত সত‌্য। কারণ আমরা তাই করছি। যে পথ জাতির পিতা দেখিয়ে গেছেন সেই পথ ধরেই আমরা এগোচ্ছি। তিনি যা করতে চেয়েছিলেন আমরা সেটা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর সুফল পাচ্ছে দেশের জনগণ।’

‘দেশ স্বাধীন করতে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, অত‌্যাচারিত হয়েছেন, জেলে খেটেছেন, তারপরও তিনি আদর্শ নিয়ে চলেছেন, মাথা নিচু করেননি। তার মতো বলিষ্ঠ নেতা ছিল বলেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি।’

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের মূল‌্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা যাবে না। মিথ‌্যাভাবে ঘোষক তৈরি করা হয়েছিলো, তা আর থাকবে না। আজ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নিজেরাই প্রচার করছে অনেক জায়গায় রেজুলেশন হচ্ছে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃণমুল পর্যায়ে কর্মসূচি হাতে নিতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বব‌্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সবাইকে স্বাস্থ‌্য সুরক্ষা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবার এর প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্ব দেখা দিয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে চলতে হবে। একইভাবে যাতে অর্থনৈতিকভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

এ সময় শস‌্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে গ্রিনেজ বুকে নিয়ে আসার জন‌্য আয়োজকদের ধন‌্যবাদ জানান তিনি। ধন‌্যবাদ জানান সেই কৃষককে যে নিজের জমিতে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব তৈরি করে সর্বপ্রথম পথ দেখিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর