,



কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের দিন গত রোববার (২৮ মার্চ) কিশোরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আহমেদ উল্লাহ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অজ্ঞাত ১০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ওইদিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারপিট ও আহত করার ঘটনায় পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।

হেফাজতের হরতালের দিনের ঘটনায় এর আগে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গত সোমবার (২৯ মার্চ) থানায় দুইটি মামলা দায়ের করেছিল। ফলে হরতালের দিন সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই তিনটি মামলায় মোট ৩ হাজার ৮১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের দায়ের করা দুই মামলায় বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকে ঘিরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে বুধবার (৩১ মার্চ) ৫৩ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৮০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই পল্লব সরকার বাদী হয়ে দায়ের করা এই মামলায় মোট ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক পিপিএম এসব বিষয় নিশ্চিত করে জানান, রোববার (২৮ মার্চ) হেফাজতের হরতাল ও মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত থানায় মোট ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি মামলা পুলিশের পক্ষ থেকে এবং অপর মামলাটি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার (২৮ মার্চ) হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে ঘিরে হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে হেফাজত নেতাকর্মীরা।

বেলা ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লাঠিসোটা নিয়ে হেফাজতের শত শত নেতাকর্মী কার্যালয়টিতে তাণ্ডব চালায়।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার ছবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র এবং সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার ছবিতে অগ্নিসংযোগ করে হামলাকারীরা।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর