,



ইসলাম গ্রহণকারী পাঁচ তারকা খেলোয়াড়

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কুরআন-হাদিসের শাশ্বত সৌন্দর্যে আকৃষ্টি হয়ে প্রতিনিয়ত পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করছে মানুষ। দিন দিন বেড়েই চলছে মুসলিম জনসংখ্যা। ইসলাম গ্রহণকারীদের তালিকায় আছেন বিশ্বের নামকরা অনেক তারকা খেলোয়াড়। ক্রিকেটে যারা প্রোজ্জ্বল, ফুটবলে দেখান কারিশমা, বক্সিং-রেসলিংয়ে দেখান বিস্ময়কর দাপট। এমন পাঁচজন তারকা খেলোয়াড়ের বদলে যাওয়ার গল্প লিখেছেন- রাকিবুল হাসান

প্রেমের ধর্ম ইসলাম-মোহাম্মদ আলী

খেলার জগতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হেভিওয়েট হিসাবে খ্যাত মার্কিন পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তিনি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মোট ৬১টি ম্যাচ খেলেন। জয়লাভ করেন ৫৬টিতে আর পরাজয়বরণ করেন পাঁচটিতে। ৫৬ জয়ের ৩৭টিই নকআউট! তার নাম ছিল ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র। ১৯৭৫ সালে তিনি ইসলামে দীক্ষিত হন। নাম ধারণ করেন মোহাম্মদ আলী।

ইসলাম গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি, কারণ অন্য কোনো ধর্মে আমি মানুষের মধ্যে এত প্রেম-ভালোবাসা দেখিনি। একে অন্যকে কোলাকুলি করা, সালাম বিনিময়, একসঙ্গে প্রার্থনা করা। ভাইবোন, মা-বাবা, পারিবারিক শিক্ষা মূল্যবোধ ইসলামেই সবেচেয়ে শক্ত। তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়েছি।’

নীতি-নৈতিকতার ধর্ম ইসলাম- মাইক টাইসন

সাবেক আমেরিকান হেভিওয়েট বক্সার মাইক টাইসন। ১৯৮৫ সালের ৬ মার্চ বক্সিংয়ে টাইসনের অভিষেক হয়। একের পর এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের গৌরব যোগ হতে থাকে তার অর্জনের তালিকায়। ১৯৯২ সালে সুখ্যাতির সূর্য যখন টগবগে, তখনই ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার নামে। এরপর তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় তাকে। সাজা ভোগ শেষে নিজেকে গুছিয়ে নিতে তৎপর হন। নৈতিকতা সাধনে ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

মুসলিম সতীর্থদের সুশৃঙ্খল জীবন আমাকে মুগ্ধ করেছে- ইউসুফ ইউহানা

পাকিস্তানের প্রথিতযশা সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ। নিু শ্রেণিভুক্ত হিন্দু বাল্মীকি গোত্রে জন্মগ্রহণ করে তিনি পরে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৫ সালে তিনি খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। বাবা ইউহানা মাসেহ ছিলেন একজন রেলস্টেশনের কর্মী।

পাক দলের এক সময়ের সেরা ওপেনার সাঈদ আনোয়ার ইউসুফের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইউসুফ বলেন, আমি যখন সাঈদের বাড়িতে যেতাম, তাদের শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতাম। সাঈদের মেয়ে মারা যাওয়ার পর সাঈদ পুরোপুরি ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। বিষয়টি আমাকে আরও আবেগী করে তোলে। বলতে গেলে এটাই আমার ইসলামের পথে আসার প্রধান কারণ।’

ক্যারিয়ারে ৯০ টেস্টে ৭৫৩০ রান করেছেন ইউসুফ। ২৮৮ ওডিআই খেলে তার সংগ্রহ ৯৭২০ রান। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে টেস্টে ২৪টি ও ওয়ানডেতে ১৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে। ওয়ানডেতে তার হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬৪টি।

ইসলাম গ্রহণ আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত- সার্জিও রিকার্দো

২০১৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার সার্জিও রিকার্দো। ইসলাম গ্রহণের পর ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আমি মনে করি, এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’ এ তারকা খেলোয়াড় ২০১০ সালে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি ক্লাবে খেলছিলেন। তখন সেখানে ইসলাম সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। এরপর অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

এ তারকা ভিটোরিয়া এবং বোটাফোগো ছাড়াও ব্রাজিলিয়ান অন্যতম সেরা ক্লাব করিন্থিয়ান্স ও ভাস্কো দা গামায় খেলেছিলেন। খেলেছিলেন সৌদির আল-ইত্তিহাদ, আল-আহলিদ ও আল-হিলালেও। ২০০৩-২০০৪ মৌসুমে রিকার্দো সৌদি প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ গোলদাতা (১৫ গোল) ছিলেন।

আমি করোনায় বিশ্বাস খুঁজে পেয়েছি- উইলহেলম

করোনার স্থবির সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় রেসলিং তারকা উইলহেলম। ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, করোনার সংকট আমাকে আমার বিশ্বাস খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। যখনই আমার কঠিন সময় যাচ্ছিল, তখনই ইসলামিক বিশ্বাস আমাকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়েছে। আমি আমার প্রকৃত ইশ্বরকে চিনতে পেরেছি। গর্বের সঙ্গে কালেমায়ে শাহাদাতও পাঠ করতে পেরেছি। এখন থেকে আমি একজন মুসলিম।

উইলহেলমের পূর্ণ নাম উইলহেলম ওট। মুসলিম হওয়ার পর নাম রাখেন খালিদ উইলহেলম ওট। তিনি অস্ট্রিয়ার গগঅ (মিক্সড মার্শাল আর্ট)-এর একজন জনপ্রিয় রেসলিং খেলোয়াড়। পেশাদারিত্বের সঙ্গে তিনি রেসলিং শুরু করেন ২০০৮ সালে। গগঅ( মিক্সড মার্শাল আর্ট)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচের ১৬টিতেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। মার্শাল আর্ট র‌্যাংকিংয়ে ৬১৫ জনের মধ্যেও হয়েছেন ৭৮তম।

বিশ্বখ্যাত সমীক্ষা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্যমতে গোটা পৃথিবীতেই অন্যান্য ধর্মের তুলনায় দ্রুত হারে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। এ ধারা চলতে থাকলে এ শতাব্দীর শেষের দিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর থেকে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি হবে। অন্য দিকে খ্রিষ্টান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার যেন প্রায় থমকে রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার হেরফের হবে না। জৈন ও হিন্দু জনসংখ্যা অল্প হলেও বাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর