,



লাখ টাকার বিদেশি চাকরি ছেড়ে মাছ চাষ, প্রথমেই বাজিমাত

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকার আনোয়ার আহমেদের ছেলে শহিদুল ইসলাম। জীবিকার তাগিদে ইতালিতে ছিলেন দীর্ঘদিন। লাখ টাকা বেতনের চাকরিও করতেন সেখানে। কিন্তু বিদেশ-বিভূঁইয়ে মন টেকেনি শহিদের। দেশে ফিরে চেয়েছিলেন নিজ উদ্যোগে কিছু করতে।

হঠাৎ ইউটিউবে দেখতে পান বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভিডিও। আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ চাষের এ পদ্ধতি পছন্দ হয় শহিদুল ইসলামের। প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে নেমে পড়লেন তিনি। প্রায় তিন লাখ টাকা খরচে চৌবাচ্চা, জেনারেটর, এয়ার মেশিন, প্যারামিটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনে শুরু করেন মাছ চাষ। ৭২ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার চৌবাচ্চায় ছেড়েছেন ৩৮ হাজার টাকার কৈ মাছের পোনা। ছয় মাসের মধ্যে সাফল্যের দেখা পান তরুণ শহিদ। প্রথমবারেই করেছেন বাজিমাত।

এ তরুণ উদ্যোক্তা জানালেন, এরই মধ্যে বড় সাইজের কৈ মাছ বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। ভালো দামও পাচ্ছেন। ১২-১৪টি মাছেই এক কেজি হয়। পাইকারি ১৫০ টাকা কেজিতে গত শুক্রবার প্রায় দুই মণ মাছ বিক্রি করেছেন। আগামী শুক্রবার আরো বেশি মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই চৌবাচ্চাতেই বায়োফ্লক্স পদ্ধতিতে কৈ মাছ চাষ করেছেন শহিদুল ইসলাম

এই চৌবাচ্চাতেই বায়োফ্লক্স পদ্ধতিতে কৈ মাছ চাষ করেছেন শহিদুল ইসলাম

শহিদ বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের শুরুতে বিপর্যের মুখে পড়েছিলাম। বিভিন্ন কারণে দুই হাজার পোনা নষ্ট হয়। এরপর বিভিন্ন উপায়ে দক্ষতার সঙ্গে পোনার পরিচর্যা শুরু করি। এতে অল্প সময়ে সমাধান খুঁজে পাই। বর্তমানে উপজেলা মৎস্য অফিস ও অভিজ্ঞ মাছ চাষিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছি। প্রথমবারেই ১২ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছি, আশা করি আগামীতেও সফলতা পাব।

বায়োফ্লক্স পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মাছ চাষের বেশ সহজ ও লাভজনক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ট্যাংকে বা চৌবাচ্চায় মাছ চাষ করা হয়। জৈব বর্জ্যের পুষ্টি থেকে চৌবাচ্চায় পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবার তৈরি হয়। পানিতে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব ও শৈবালের সমম্বয়ে পাতলা আস্তরণ তৈরি হয়। যা পানিকে ফিল্টার করে। যা পানি থেকে নাইট্রোজেন জাতীয় ক্ষতিকর উপাদানগুলি শোষণ করে। এরপর প্রোটিনসমৃদ্ধ যেসব উপাদান থাকে সেগুলোকে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

চৌবাচ্চা থেকে বড় সাইজের কৈ মাছ সংগ্রহ করছেন শহিদুল ইসলাম

চৌবাচ্চা থেকে বড় সাইজের কৈ মাছ সংগ্রহ করছেন শহিদুল ইসলাম

আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা সম্ভব। যেখানে খাদ্য খরচ প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক কম। মাছের উৎপাদন হার পুকুর বা জলাশয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তরুণরা প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আখাউড়ার অনেক শিক্ষিত যুবক এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া আমিষের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম প্রথমবার বায়োফ্লক্স পদ্ধতিতে মাছ চাষেই সফলতা পেয়েছেন। তাকে দেখে এলাকার অনেকেই এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এভাবে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ছড়িয়ে পড়লে দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর