,



বরিশালের ইলিশ মোকামে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ভরা মৌসুমে এখানকার নদীতে ইলিশ না মিললেও সাগরে ইলিশ মেলায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে বরিশালের পাইকারি মোকামে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও গত দুই সপ্তাহ ধরেই সাগর থেকে ইলিশশূন্য ট্রলারে হতাশা নিয়ে ফিরে এসেছিলেন জেলেরা। কিন্তু দৈনিক গড়ে ১ হাজার মণ সাগরের ইলিশ আসতে থাকে গত তিন দিন ধরে। ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ গ্রাম ওজনের এ ইলিশ মিলতে থাকায় জেলেদের পাশাপাশি পাইকারি বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠলেও ক্রেতারা হতাশ। কেননা আড়তদাররা এসব ইলিশ প্যাকেটজাত করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় খুচরা বাজারে দাম চড়া।

আড়তদার সমিতির প্রচার সম্পাদক ইয়ার উদ্দিন সিকদার জানান, বর্তমানে সাগরের যে ইলিশ মিলছে তা ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ গ্রামের। প্রতি মণ ইলিশ পাইকারি বাজারে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে ফেরা একাধিক জেলে জানান, প্রত্যেকটি বোটে ১৭ থেকে ২০ মণ ইলিশ বোঝাই করে তারা মোকামে ফিরছেন। এতে তাদের খরচ শেষে লাভের পরিমাণ ভালো থাকছে। সাইজে ছোট হলেও একেক চাকে প্রচুর ইলিশ মিলছে। দীর্ঘদিন পর তারা লোকসান পুষিয়ে উঠতে শুরু করেছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়সহ মৌসুমের দীর্ঘ চার মাস তাদের বেকার থাকতে হয়েছে।

আড়তদাররা জানান, অভ্যন্তরীণ নদনদী থেকে এবং সমুদ্র থেকে সারা বছর কম-বেশি ইলিশ আহরিত হয়। তবে আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস এই তিন মাস ইলিশের প্রধান মৌসুম। গত ২৩ মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলো বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঝপথ থেকেই ফিরে এসেছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাওয়া ট্রলারগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরে ফিরছে। আগে স্থানীয় বিভিন্ন নদনদীর ৪০ থেকে ৫০ মণ ইলিশ আসত মোকামে। এখন আসছে প্রায় ১ হাজার মণ ইলিশ।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার  জানান, বরিশালের পাইকারি বাজারসহ সাগরপাড়ের মোকাম মহিপুর, আলিপুরেও সাগরের ইলিশ দিনে দিনে বাড়ছে। সাগরে যাতায়াতরত একাধিক জেলের মাধ্যমে ইলিশের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। তাই আগামী দিনগুলোতে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গতকাল বরিশালের খুচরা বাজারে সাগরের ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ক্রেতারা জানান মৌসুমের এ সময়ে এ ইলিশ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে কেজি বিক্রি হওয়ার কথা। একাধিক ক্রেতা জানান তারা বাজারগুলো ঘুরে শূন্য হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ পাইকারি বাজারে প্রচুর ইলিশ আসছে কিন্তু বড় বড় পাইকাররা তা ক্রয় করে প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন স্থানে অধিক মুনাফার আশায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকার স্বল্প আয়ের ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন ইলিশের স্বাদ থেকে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর