,



মিঠামইনে এমপি তৌফিকের উপস্থিতিতে জাতির পিতাকে গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় স্মরণ

রফিকুল ইসলামঃ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের উপস্থিতিতে মিঠামইন উপজেলায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাসহ সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

আজ ১৫ আগস্ট (রোববার) এ দিনটির সকাল থেকেই সঙ্গতিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গভীর শোক, বিনম্র শ্রদ্ধা আর অগাধ ভালোবাসায় জাতির জনককে স্মরণ করা হয়েছে।

সেইসব কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্যের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত করা ও শোকের কালো পতাকা উড়ানো, কালো ব্যাজ পরা, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃতি, শোক ও আলোচনা সভা।

উপজেলা সদরে অবস্থিত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের আয়োজনে শোক ও আলোচনা সভা এবং মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন যুব লীগের আহ্বায়ক ও মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম মিয়া, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য সমীর কুমার বৈষ্ণব, প্রচার সম্পাদক মাইন উদ্দিন খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান উল্লাহ্ প্রমুখ।

জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ১৫ আগস্টের হোতা ও তাদের উত্তরসূরিরা এখনো সক্রিয় থাকার শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগস্ট একটি বেদনাদায়ক নাম। ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসুদ্ধ নির্মমভাবে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশ থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে সর্বশেষ চেয়েছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে উপর্যুপরি গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে। এতে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ অন্তত ২৩ জন মারা যান এবং আহত হন তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমানে টানা তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকে।

জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তৌফিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা ও উপর্যুপরি গুলিবর্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এর জন্য আওয়ামী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শোক সভায় প্রধান অতিথিসহ বক্তারা বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের খুঁজে বের করে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানায়।

একই অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ৫ জন সুবিধাভোগীকে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মামুন মজুমদার প্রধান অতিথির মাধ্যমে ২ লাখ টাকার ঋণের চেক হস্তান্তর করেন।

শেষে প্রধান অতিথি সঙ্গীয়দের নিয়ে ডাকবাংলোর প্রাঙ্গনে কাঙ্গালি ভোজ বা দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

জাতীয় শোক দিবসের ঊষালগ্নেই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত রাখা হয়, উড়ানো হয় শোকের কালো পতাকা।

এরপর সকাল ৯ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, উপজেলা পরিষদের পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম মিয়া, উপজেলা প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রভাংশু সোম মহানসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য সমীর কুমার বৈষ্ণব, যুব লীগের আহ্বায়ক ও মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফ কামাল, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসনের অষ্টগ্রাম সার্কেলের এএসপি এসএম আজিজুল হক ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির রব্বানী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফারুক আহম্মদ সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গঠনসমূহ।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুক আহাম্মদের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা শোক র্যালী বাজার প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সেসঙ্গে তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও।

এদিকে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মিজানুর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজ, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও মহিষারকান্দি মাতলুবুল দারুণ উলুম ফাজিল মাদ্রাসাসহ একটি কলেজ, ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি মাদ্রাসায় যথাযথ মর্যাদায় দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং জাতির পিতাকে গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে বলে জানান।

অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদ উল্লাহ্ বলেন, করোনার থাবায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় উপজেলার ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ-নাত, মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারাও অংশ নেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালিত হয়েছে এসব কর্মসূচি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর