,



১০০ বছরে ১৮ বার বদলেছে আফগান পতাকা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ আফগানিস্তানে রবিবার তালেবান ক্ষমতায় আসে। মঙ্গলবার তালেবানের পতাকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলে তালেবানের গুলিতে তিনজন নিহত হয়। বিক্ষোভ গতকালও অব্যাহত ছিল। ১০০ বছর আগে ব্রিটিশদের হাত থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৮ বার বদলেছে কাবুলের পতাকা।

১৯০১ সাল থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছেন সম্রাট হাবিবুল্লাহ খান। তার রাজত্বে যে পতাকার প্রচলন হয় তার মাঝে একটি মসজিদের ছবি ছিল। মসজিদের ঠিক নিচে ছিল গুণচিহ্নের মতো অবস্থানে দুটি তলোয়ারের ছবি। এই পুরোটাকে ঘিরে ছিল ফুলের গোলাকার মালা। ১৯২১ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে পুরোপুরি মুক্তিলাভ করে আফগানরা। তখন রাজা ছিলেন আমানুল্লাহ খান। তিনি পতাকার ভেতরের মসজিদের ছবি একটু বদলে দিলেন। নিচে তলোয়ারের আকারও খুব ছোট করে দিলেন এবং ঘিরে থাকা গোলাকার ফুলের মালার বদলে আট চূড়াবিশিষ্ট একটি নকশা এঁকে দেন। নতুন রূপের পতাকা পেল আফগানিস্তান। এর পাঁচ বছর পর ১৯২৬ সালে ফের তিনি পতাকার নকশা বদলে দেন।

এরপর ১৯২৯ সালে, ১৯৩৩ সালে মুহাম্মদ জহির শাহ ক্ষমতায় আসেন এবং পতাকার বদল ঘটান। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত এই পতাকাই বহাল ছিল। ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৭৯ সালেও কাবুলের পতাকায় পরিবর্তন আসে। ১৯৯২ সালে কাবুলের দখল নেয় মুজাহিদিন। বুরহানুদ্দিন রব্বানি হন নতুন প্রেসিডেন্ট। তার আমলে ফের পতাকা বদলে যায় অনেকটাই। সবুজ, কালো এবং সাদা এই তিন রঙে সেজে ওঠে পতাকা। আমানুল্লাহ এবং নাদির শাহের আমলে পতাকার মাঝে যে নকশা ছিল, সেই দুইয়ের মিশেলে নতুন নকশা বানানো হয়।

১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের শাসন শুরু হয়। সাদা কাপড়ের মাঝে কালো হরফে কালেমা শাহাদাত্ লেখা পতাকা ওড়ে কাবুলে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানের দখল নেয় আমেরিকার সেনা। রব্বানি ফের ক্ষমতায় ফেরেন। তার সঙ্গে ফের আরো একবার পতাকার বদল ঘটে। এরপর প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের আমলে ২০০৪ ও ২০১৩ সালে এবং আশরাফ ঘানির আমলে ২০১৪ সালে পতাকা বদলায়।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর