,



জাতীয় সম্মেলন ও নির্বাচনি প্রস্তুতি দল গোছানোর কাজে গতি আনছে আ.লীগ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ দল গোছানোর কাজে গতি ফেরাতে চায় আওয়ামী লীগ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার হ্রাস পেলে আগামী ৪ মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৩টি জেলা সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। পাশাপাশি উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সম্মেলনও শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন দল। এ জন্য সেপ্টেম্বরে দলটির বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মাঠে নামছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, দলের আগামী জাতীয় সম্মেলন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে মাঝে এ কাজে কিছুটা স্থবিরতা এলেও এখন নতুন করে পুরো উদ্যোমে কাজ শুরু করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, অবশিষ্ট জেলাগুলোর সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। বিভাগীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তারা কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে কিছু করা যায়নি। ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদকরা কাজ করছেন। আশা করছি- সেপ্টেম্বরে করোনা সংক্রমণ আরও কমে আসলে আবারও সম্মেলনের কাজ আমরা শুরু করতে পারব। তবে আমরা যা করার অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজ কিন্তু বন্ধ ছিল না। করোনার শুরু থেকে আমাদের দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি মনে করি- রাজনৈতিক দলের জন্য এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ।

দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আট বিভাগে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৩টি এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫টি, চট্টগ্রামের সাতটি, ময়মনসিংহের পাঁচটি, রাজশাহীর চারটি, বরিশালের চারটি, রংপুরের তিনটি, খুলনার চারটি এবং সিলেট বিভাগের একটি সংগঠনিক জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটির সংখ্যা প্রায় ৬৫০ মতো। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬০টি, চট্টগ্রামে ১২৯টি, রাজশাহীতে ৮৩টি, খুলনায় ৭৪টি, রংপুরে ৬৬টি, বরিশালে ৫৩টি, সিলেটে ৪৯টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯টির মতো কমিটি রয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে ১৩৮টির মতো উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পরও বেশ কিছু উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাড়ে ৬৫০ কমিটির মধ্যে এখনো ৩৫০ অধিক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া সম্মেলন হওয়া কমিটির অর্ধেকের বেশির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের আটটি জেলা ও একটি মহানগর রয়েছে। এখানে চারটি জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ। এ বিভাগে ৮৩টি উপজেলার সমমর্যাদার কমিটি রয়েছে। এরমধ্যে ইতোমধ্যে ২৭টির সম্মেলন হয়েছে। বাকি ৫৬ জেলার সম্মেলনের কাজ চলছে।

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আরও ১৫-২০টা উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমরা সেগুলো করতে পারিনি। আশা করছি- সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সব থানা-উপজেলা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সব জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে পারব।

ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটা মহানগর ও বাকি ১৩টা জেলা শাখা। এরমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাড়া বাকি ১৫টি সাংগঠনিক জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ। ঢাকা বিভাগে শতাধিক উপজেলা ও দুই শতাধিক সাংগঠনিক থানা রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। একাধিকবার প্রস্তুতি নিলেও করোনার কারণে এ বিভাগের সম্মেলনের কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

তবে ইতোমধ্যে আবার নতুন করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর আগে ঢাকা জেলার নেতাদের নিয়ে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ঢাকা জেলার সব থানার সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৫টা সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি জেলা এবং দুটি মহানগর। এরমধ্যে আটটি কমিটির সম্মেলন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। সাতটা মেয়াদোত্তীর্ণ। এ বিভাগে ১২৯ উপজেলা সমমর্যাদার শাখা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টির সম্মেলন হয়েছে। বাকি ৭০টির সম্মেলন বাকি। ৩০ মার্চ এ বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিবর্তন করা হয়।

রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের আটটি জেলা এবং একটা মহানগর রয়েছে। ছয়টির সম্মেলন হয়েছে। বাকি তিন জেলা আওয়ামী লীগ মেয়াদোত্তীর্ণ।

তবে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক দাবি করেন- রংপুর বিভাগে কোনো সাংগঠনিক জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ নেই।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, রংপুর মহানগর বাদে বাকি আট জেলায় ৬৫টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ শতাংশেরই সম্মেলন হয়েছে। তবে অনেকগুলোর এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগে আওয়ামী লীগের চারটি জেলা এবং একটি মহানগর কমিটি রয়েছে। এর সব মেয়াদোত্তীর্ণ। একই অবস্থা এ বিভাগের উপজেলা থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর। বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্ধিত সভাও হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে সম্মেলন করা যায়নি।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে আমরা সম্মেলন করতে পারিনি। তবে কাজ এগিয়েছে অনেক। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে সম্মেলনের কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।

খুলনা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে আগে সাতটির সম্মেলন ও কমিটি হয়েছে। তবে চারটি জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ।

এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, আমরা কাজ করছি। পরিস্থিতি ভালো থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলনগুলো শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।

বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের সাতটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে বরগুনা ও পিরোজপুর নিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখানকার সব উপজেলার সম্মেলন শেষ হয়েছে। কমিটি গঠনের কাজ চলছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকিগুলোর সম্মেলন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন যুগান্তরকে জানান, জাতীয় সম্মেলনের আগে সুনামগঞ্জছাড়া এ বিভাগের অন্য জেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটিও হয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর, মৌলভীবাজারের উপজেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। তবে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন বাকি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলোর সম্মেলন ও কমিটি গঠন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর