আগামী নির্বাচনেও গণতন্ত্র চর্চা করবে আওয়ামী লীগ: কৃষিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল, সব সময়ই গণতন্ত্র চর্চা করে এসেছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। আগামী নির্বাচনেও দলটি গণতন্ত্র চর্চা করবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ। কোনো শক্তি, চক্রান্তকারী ও বিদেশিদের পা চাটে এমন কেউ এ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের বাগবাড়ী চৌবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই জনগণের সমর্থন। জনগণ এই দেশের মালিক। জনগণের সমর্থন থাকলে বিদেশি শক্তি আমাদের ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। ’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিএনপি একটানা আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। একই দাবি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা পালাবার পথ পাবে না―এই একই কথা বারবার বলছে। বলছে, শেখ হাসিনার পতন না হলে তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তাদের ২০১৩ সালের পরিণতি হবে। যারা নির্বাচন বয়কট করতে চান, তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় ছিলেন। অনেক অন্যায়-অত্যাচার করেছেন দেশের জনগণকে। সে সময় এ দেশে গণতন্ত্র ছিল বিপন্ন। সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি, কিছু লবিস্ট, বিএনপি-জামায়াত ধর্মান্ধদের টাকা খেয়ে মিথ্যাচার ও মিথ্যা রিপোর্ট দেয়। ’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই গণতন্ত্র চর্চা করে এসেছে। বহির্বিশ্ব সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যতই শক্তিশালী দেশ হোক না কেন, তারা কোনোভাবেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোনো দেশের কোনো রকম হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না। ’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। তাদের মনে রাখতে হবে, দেশের জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসতে হবে। কাজেই বিএনপি যতই ষড়যন্ত্র করুক, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলাক, আমি মনে করি এ দেশের মানুষ তা মোকাবেলা করবে। নির্বাচন ছাড়া ষড়যন্ত্র করে বা চোরাগলি পথে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার না দিলে বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে না বলছে উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তাদের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনারের এখতিয়ারে হবে। পৃথিবীর কোথাও তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। জাপান বলেন, এমনকি আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত, আমেরিকা কোনো কান্ট্রিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। ’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যত বড় দলই হোক না কেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে তারা ব্যর্থ হবে। কর্মীরা হতাশ, বিপর্যস্ত ও দিশাহারা হয়ে বিপথে পরিচালিত হবে। এটা দেশের জন্য ভালো না। আমরা চাই বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী ও ভালো বিরোধী দল থাকুক। যারা গঠনমূলক রাজনীতি করবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই তো বিএনপি বিশ্বাস করে না। বঙ্গবন্ধুর দেওয়া নীতি থেকে আমরা সরে যায়নি। কোনো চাপে, যত রকমই স্যাংশন দিক না কেন, জেল-জুলুমের ভয় দেখাক না কেন আমরা অবশ্যই প্রতিরোধ করব। কোনোক্রমে চাপের মুখে আমরা নতিস্বীকার করব না। ’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক। এ সময় আরো বক্তব্য দেন জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, শাজাহান আনসারী, যুগ্ম সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর