ছুটির দিনে বাণিজ্যমেলা, যমুনার প্যাভিলিয়নে লোকে লোকারণ্য

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাণিজ্যমেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করতে থাকেন। টিকিট কাউন্টারগুলোতে লাইন ধরে টিকিট কাটতে দেখা গেছে। প্রবেশদ্বারের বাইরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। মেলায় ঘুরতে আসা লোকজন কেনাকাটা ছাড়াও পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক, লেক, আশপাশের পার্ক ঘুরে দেখছেন। পাশাপাশি খাবার খাচ্ছেন মেলার বাইরে থেকেও।

মেলায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তা রাকিব বলেন, গতবারের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। মেলা উপলক্ষ্যে মাসজুড়ে আমরা ডিসকাউন্ট দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের শোরুমে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমাগতই বাড়ছে। গত শুক্রবারের তুলনায় দ্বিতীয় শুক্রবারে আমরা দ্বিগুণ বিক্রি করেছি। আশা করি সামনে এ বিক্রির পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসেন গৃহিণী রুমানা। তিনি বলেন, আমি যমুনার একটি ওয়াশিং মেশিন কিনেছি। অনেক কোম্পানির ওয়াশিং মেশিন দেখলাম। মানে-গুণে-ছাড়ে যমুনার পণ্যই আমার কাছে সেরা মনে হচ্ছে। মেলা উপলক্ষ্যে তারা পণ্যটি হোম ডেলিভারিও দিচ্ছে।

মেলায় হুরের হেড অফ সেলস রমজান মজুমদার বলেন, শুক্রবার মেলায় কুর্তি বেশি বিক্রি হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের বেশি নারীরা এটি কিনেছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, হুরের পোশাকের ফেব্রিক্স, প্রিন্ট, ডিজাইন অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় চমৎকার। গৃহিণীদের পছন্দ হুর। এর ফেব্রিক্স গুণে-মানে অনন্য।

মেলার ১৩তম দিনে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে মেলার বাইরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে বসেছে অস্থায়ী খাবার হোটেলসহ নানা পণ্যের পসরা। এসব দোকানের পরিবেশ যাই হোক, মেলার ভেতরে থাকা খাবার হোটেল থেকে কম দামে বিক্রি করছে। আর তাই দর্শনার্থীদের একটা অংশ খাবার খাচ্ছেন মেলার বাইরে থেকে। মেলায় প্রবেশের দক্ষিণ, পশ্চিম পাশে করা হয়েছে শতাধিক খাবার হোটেল। পাশাপাশি খোলা খাবার বিক্রির জন্য রয়েছে ভাসমান হকার। দেখা যায়, প্রায় একই ধরনের খাবার মেলার বাইরের দোকানের চেয়ে ভেতরের স্টলে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দাম বেশি।

কথা হয় মেলায় মুন্সীগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা রনি দেওয়ানের  সঙ্গে।  তিনি বলেন, মেলার ভেতরে যে নান রুটির দাম ৬০ টাকা একই রুটির দাম বাইরে ৩০ টাকা, যে মুরগির চাপ ভেতরে ২৫০ টাকা সেটাই বাইরে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ভাসমান খাবার হোটেল ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, মেলার বাইরে হোটেল দিয়েছি তাতেও অনেক খরচ হয়েছে। তবুও মেলার ভেতরের চেয়ে বাইরে দাম কম রাখতে পারি। এতে নিম্ন আয়ের লোকজন খুশি। তারা বেশি দাম দিয়ে ভেতরে খাবার কিনে খেতে চায় না।

কথা হয় মেলার ভেতরের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী ঢাকা হাজী বিরিয়ানির পরিচালক আলম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলায় স্টল পেতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তা উঠাতে দাম বাড়ানো ছাড়া গতি নেই। কিন্তু রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আমাদের মূল্য বেঁধে দিয়েছেন। আবার ট্যাক্স দিতে হয়, কর্মচারী খরচ, আরও নানা খরচ দেওয়ার পর দাম যা রাখি তাও কম। আর বাইরে যারা দোকান দেয়, তারা কিছু লোককে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে। সেখানে তাদের অতিরিক্ত খরচ নেই। তাই তারা কমে খাবার বিক্রি করতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু বলেন, মেলার বাইরে দোকান বসাতে দেওয়া হয়নি। একটু দূরত্বেই কেউ কেউ প্লট মালিকদের ম্যানেজ করে দোকান বসিয়েছেন। এতে পুলিশের কোনো হাত নেই। আর হকাররা নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা ভাসমান দোকানে কিছু বিক্রি করছেন। তা মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।  তবে  খাবারের দাম আর মান দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়।

এদিকে মেলায় ঘুরতে আসা লোকজন মেলায় প্রবেশের পূর্বে কিংবা বাসায় ফেরার পথে মেলার অতি নিকটে থাকা তিনটি পার্ক, ৩০০ ফুট সড়কসহ আশপাশের বিনোদন এলাকা ঘুরে দেখছেন। মেলায় বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীর উপস্থিতি রয়েছে। বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে মেলা জমাতে নিত্যপণ্যের দোকানে ছাড় দেওয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বিদেশি সব পণ্যের দাম নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর