,



ইসির থাকবে ফেয়ারনেস, ভোটে সবদল: বিশেষজ্ঞগণ

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বর্জনের সংস্কৃতি পাল্টে নির্বাচটনী  ‘মুশকিল’ এড়াতে সব রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ইসিকে কথায় ও কাজে ফেয়ারনেস দেখাতে হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘সজাগ’ থাকতে হবে। এবার যেন কেউ ভোট বয়কট না করে, যদি করে তাহলে পরিস্থিতি মুশকিল আকার ধারণ হবে।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কমিশনের সংলাপে এসব পরামর্শ উঠে আসে।

এসময় সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনার, সাবেক সচিবসহ ১৬ জন বিশেষজ্ঞ বৈঠকে অংশ নেন।

কমিশন প্রধান কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় সংলাপ শেষে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেন, ‘বিদ্যমান আইন অভিজ্ঞতার আলোকে সংস্কারের দরকার। এজন্যে ইসির এখতিয়ার ও এখতিয়ারের বাইরের বিষয়গুলো দুই ভাগে চিহ্নিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমারও ডায়ালগ করেছি, বর্তমান ইসিও করছে। এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে ইসির করার কিছুই নেই।’

এসময় তিনি সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, নির্বাচনকালীন সরকার, সীমানা পুনর্বিন্যাসে বৈষম্য দূরীকরণে সিট বাড়ানোর পাশাপাশি মফস্বলে কমানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সাবেক এ সিইসি।

তিনি জানান, এসব বিষয়ের ব্যাপারে সাংবিধান সংশোধনের দরকার। সব দলের সঙ্গে কথা বলে এসবের একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। যদিও মাত্র এক বছরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বল্প সময়ে এর সমাধান হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

শুধু সামনের নির্বাচন নয়, আগামীতে শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরেন সাবেক সিইসি। নির্বাচন এলেই খণ্ড খণ্ড বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার জন্যে তাগিদ দেন এটিএম শামসুল হুদা।

অবকাঠামোগত ও মানব সম্পদ উন্নয়নে নিজের আমলে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, আগামীতে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে বাছাই করে কিছু লোককে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যেতে পারে। এ জন্যে আরও প্রশিক্ষণের দরকার।

শামসুল হুদা জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করা ইসির একার পক্ষে সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ইসির স্কন্ধে চাপিয়ে দিলে হবে না। এখানে অনেক প্লেয়ার রয়েছে।

বিএনপির প্রতি তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার ভোটে না এলে মুশকিল রয়েছে। কেউ যেনো নির্বাচন না করার মনোবৃত্তি না রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘পলিটিক্যাল পার্টিগুলোরও নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব আছে। গত নির্বাচনে যেমন কালচার অব বয়কট হয়েছে; সুতরাং এবার পলিটিক্যাল পার্টিগুলোকে সজাগ থাকতে হবে, সবাই যেন নির্বাচন করেন। সে মনোবৃত্তি যেন হয়।’

বিএনপি এবারও যদি ভোট বর্জন করে এবং তাদের ভোটে আনার বিষয়ে উদ্যোগ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার যদি নির্বাচন বর্জন করে তবে এ ইলেকশনে মুশকিল আছে, এবার সব পার্টিকে অংশগ্রহণ করতে হবে। করাতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সিইসি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা যদি বলেন, তত্ত্বাধায়ক সরকার আর হবে না এটা সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এর পিঠাপিঠি ওই টাইম ফ্রেমে থেকে যদি আরেকটি নির্বাচন করতে হয় তাহলে ওইটা (তত্ত্বাবধায়ক) আর পারবেন না।’

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি ইসির এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতেই ভোট করার কথা জানান শামসুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতি এবং পরিবেশ, যে অবস্থা রয়েছে তা মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। এখানে কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনাই হয় নি। এখানে আজ যারা ছিলেন তারা সবাই বুঝতে পেরেছে এটা নিয়ে এখানে আলাপ করে লাভ নেই, এটা ইসির কাজ না।’

এসব বিষয়কে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘শুধু নির্বাচন আসার আগেই তারা এগুলো বলবে কেন? এটা কন্টিনিউয়াস মুভমেন্ট করে করতে হবে।’

সাবেক এ সিইসি জানান, সেনা মোতায়েন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উইথ ইন দি এক্সিসটিং লিগ্যাল ফ্রেইম ওয়ার্ক তাদের নিয়োগ করতে হবে। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমরা রয়েছে, এ অবস্থায় আর্মিকে এ ক্ষমতা দিবেন কিনা এ প্রশ্ন রয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘যদি আর্মি কোথাও ডেপ্লয় করা হয়, আর্মির অফিসার যদি দেখেন এখানে অনিয়ম হচ্ছে তখন তো ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

ইসির উপর জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার বিষয়ে এটিএম শামসুল হুদা জানান, কমিশনকে অবশ্যই আস্থা অর্জন করতে হবে। ভোটে নিরাপত্তার বিষয়টি জোর দেওয়া হবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

বর্তমান ইসির চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কথা ও কাজে ফেয়ারনেস দেখাতে হবে, যাতে আস্থা নষ্ট না হয়। কিছুটা আস্থা তো হয়েছে, এটা ধারণ করতে হবে।’

এদিকে সাবেক সিইসি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেছেন, ‘জনগণের হাতে ভোটের অধিকার দেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে ফেয়ার ইলেকশন করা সম্ভব না। তারা পলিটিক্যালি চার্জে রয়েছে, এটাই বিদ্যমান পরিস্থিতি।’

তিনি জানান, দেশের সমস্যা একটাই- ইনডিসিপ্লিন। এটাকে শৃঙ্খলার মধ্যে না আনা হলে নিউক্লিয়ার উইপন নিয়েও নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাবে না।

৩১ জুলাই সুশীল সমাজ, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ২৪ অগাস্ট থেরেক ১৯ অক্টোবর ৪০ টি নিবন্ধিত দল, ২২ অক্টোবর পর‌্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী ও ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংলাপ হল।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর