,



মুজিবুল হক মুজিব কৃষক পরিবার থেকে যেভাবে মন্ত্রী হলেন

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ মুজিবুল হক মুজিব। বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৪৭ সালের ৩১ মে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক।

কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে মোট তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুজিবুল হক। ২ বার ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ। সফলতার ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে হন মন্ত্রী।

১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন মুজিবুল হক। এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।

নিজ নির্বাচনী আসন চৌদ্দগ্রামে অনেক জনপ্রিয় মুজিবুল হক। রাজনীতি করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ের প্রতিও মনোনিবেশ করেননি তিনি। তবে ৬৭ বছর বয়সে দীর্ঘ ব্যাচেলর জীবনের ইতি টেনে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মিরাখলা গ্রামের হনুফা আক্তার রিক্তাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি একটি কন্যা সন্তানের বাবা।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে এসে নিজের জীবনের গল্প বললেন কৃষক পরিবার থেকে মন্ত্রী হওয়া মুজিবুল হক। জানালেন নানা অজানা কথা।

মুজিবুল হক বলেন, ‘আমার জন্ম এক অঝোপাড়া গ্রামে। বাবা ছিলেন একজন খাটি কৃষক। মা ছিলেন গৃহিণী। আমরা ৮ ভাই ১ বোন। আমি সবার ছোট। আমার বাবা একজন কৃষক হিসেবে অনেক কষ্ট করেছেন। আমাদের সকল ভাইকে কমবেশী লেখা-পড়া করিয়েছেন। গ্রামের মানুষ অনেক কষ্ট করে, আমার বাবাও করেছেন। বাবার সাথে আমিও বহু কৃষিকাজ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার যখন বুঝ হয় তখন থেকেই আমি দেখে আসছিলাম, আমাদের এলাকায় কোনো পাকা রাস্তা ছিল না। তখন থেকেই আমার ভেতরে একটা আকাঙ্ক্ষা জাগে, মানুষের উপকারে যদি নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি তাহলে জীবন স্বার্থক হবে। সেখান থেকেই আমার রাজনীতির ইচ্ছে হয়।

তিনি বলেন, লেখাপড়ার সময় আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কারণ, সীমিত আয় দিয়ে আমাদের সকল ভাইকে আমার বাবা মানুষ করেছেন। কষ্ট করতে করতে একটা আকাঙ্খা জাগে, নিজেও ভাল আয় করব মানুষেরও খেদমত করব।

মন্ত্রী বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বক্তব্য দিতেন সেগুলো শুনতাম। ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।

তিনি বলেন, এরপর আমি আয়কর আইনজীবী হিসেবে ওকালতি শুরু করলাম। তখন কুমিল্লার আয়কর আইনজীবীদের মধ্যে আমি প্রথম সারিতে ছিলাম। সেসময় অনেক অর্থ উপার্জন করে মানুষের কল্যাণে খরচ করেছি। রাজনৈতিক জীবনে অনেক সময় ব্যয় করেছি। কাজ করেছি মানুষের জন্য। কাজ করতে করতে ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলেন। আমি প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হই।

তিনি আরও বলেন, রেলপথ কোনো মন্ত্রণালয় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর নতুন রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেন। রেলপথের উন্নয়নে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করছি। বর্তমানে ৪৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর