,



২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আবদুল হামিদ একক প্রার্থী

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোঃ আবদুল হামিদকেই প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সংসদীয় বোর্ড আজ রাত আটটাই তাকে মনোনীত করেছেন। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীই দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি ভাটি শার্দূল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে মোঃ আবদুল হামিদই রাষ্ট্রপতি থাকবে। সরকার এবং আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে বাঙালী কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Image may contain: 6 people, people smiling, people standing and outdoor

সংসদীয় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার রাত ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা শুরু হয়। শেষ হয় পৌনে ৯টায়। সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর এতে সমর্থন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এরপর সভায় উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আবদুল হামিদকেই আগামী মেয়াদের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে।

Image may contain: one or more people, outdoor and text

যে কারণে প্রার্থী করা হলো অন্য কাউকে  

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ চায় ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে। নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবেন। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষমতা থাকবে না। এ সময় রাষ্ট্রপতির পদটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রপতির অধীনে। ফলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত সৈনিক। এ কারণে তাকেই প্রার্থী করা হয়েছে।

Image may contain: 1 person, standing, sky, outdoor and nature

সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আবদুল হামিদই ২১তম রাষ্ট্রপতি থাকবে 

আগের নির্বাচনগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পর সব রাষ্ট্রপতিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে এটা নিশ্চিত। জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণ দলটির মনোনীত প্রার্থী দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২৩ এপ্রিলে।

Image result for রাষ্ট্রপতির ছবি

সংসদে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের ইচ্ছাতেই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। কারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেয়ার এখতিয়ার নেই সদস্যদের। সেই হিসাবে ক্ষমতাসীন দল যার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন, তার বাইরে কারও নির্বাচিত হয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হলেও এরপর থেকে কোনো নির্বাচনেই ভোট হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীরা। এবারেও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

Image result for হাওরের মানুষ আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি ছবি

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি পদে আরেক মেয়াদে থেকে যেতে আবদুল হামিদকে অনুরোধ জানিয়েছেন অনেক আগে।

১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পরে কেউ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হননি। বিএনপির প্রথম আমলে দলের নেতা আবদুর রহমান বিশ্বাস, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলের বাইরে থেকে সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং চাপের মুখে তার পদত্যাগের পর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। জরুরি অবস্থা জারির সুবাদে ইয়াজউদ্দিন সাত বছর রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হননি। ফলে আবদুল হামিদ এবার রাষ্ট্রপতি হবেন সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর প্রথম দুই মেয়াদের ।

Image may contain: one or more people, people standing, grass, outdoor and nature

আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। আবার দলের প্রতি আনুগত্য থাকলেও তিনি এই পদটিকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখতে পেরেছেন বলেই ধারণা করা হয়। আর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে তার বিষয়ে তেমন কোনো সমালোচনা আসেনি এখন পর্যন্ত। আবদুল হামিদ স্পিকার থাকাকালেও তিনি বিএনপির ‘প্রিয়ভাজন’ই ছিলেন।

Image result for রাষ্ট্রপতির ছবি

দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অধিকারী আবদুল হামিদ জনগণের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি বহুবার বিষয়টি বলেছেন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তার ভালো লাগে না। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি বিশেষ করে নিজ এলাকার লোকদের জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত রেখেছেন।

২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। স্বাধীনতার পর থেকে এখন আবদুল হামিদকে নিয়ে ২০ মেয়াদে ১৭ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

Image result for হাওরের মানুষ আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি ছবি

কিশোরগঞ্জ-৪ (মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম) থেকে ৭ বারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, দুইবার মাননীয় স্পিকার, বিরোধী দলীয় উপনেতা, মহামান্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি থেকে বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি পদে সর্বদা জননন্দিত একজন সফল ব্যাক্তিত্ব হিসাবে বাংলার মানুষকে জয় করেছেন তিনি। কিশোরগঞ্জ তথা হাওরবাসীর কাছে ভাটির শাদুর্ল হিসেবে পরিচিত আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট আবারো ও হতে যাচ্ছেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি। দলমত নির্বিশেষে জেলার সকল জনগণ তাকে সমর্থণ যানাছেন। এ খবরে কিশোরগঞ্জ জেলার সকল অধিকারীরা দোয়া ও সমর্থণ করছেন। আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম হাজী মো. তায়েব উদ্দিন ও মাতার নাম মরহুমা তমিজা খাতুন।

Image result for রাষ্ট্রপতির ছবি

আব্দুল হামিদের শিক্ষাজীবন শুরু কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে তিনি ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন ভৈরব কেবি স্কুলে এবং নিকলী জেসি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে  আইএ ও বিএ ডিগ্রী এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। এলএলবি ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি আইন পেশায় কিশোরগঞ্জ বারে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯০-১৯৯৬ সময়কাল পর্যন্ত  পাঁচবার কিশোরগঞ্জ জেলা বার সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Image may contain: one or more people and people sitting

১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আব্দুল হামিদ ১৯৭০ সালে ময়মনসিংহ-১৮ সংসদীয় আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ভারতের মেঘালয় রিক্রুটিং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার  বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) এর সাব-সেক্টর কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

Image may contain: 1 person, standing and outdoor

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ  জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৮ থেকে ২০০৯ এর ২৫ জানুয়ারি স্পিকার নির্বাচিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৬-৭৮ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় তিনি কারারুদ্ধ হন ।

Image may contain: 2 people, people standing and outdoor

১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আব্দুল হামিদ ৭ম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১৩ জুলাই ১৯৯৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০১ পর্যন্ত এ পদে  দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১১ জুলাই ২০০১ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ৮ম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্য়ন্ত  বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বসম্মতিক্রমে  দ্বিতীয়বারের মত স্পিকার নির্বাচিত হন।

Image may contain: 6 people, people smiling, people standing, outdoor and water

দেশবাসীর কাছে ভাটি শার্দূল মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মহোদয়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করিবেন, আল্লাহ তায়ালা উনাকে সুস্থতা এবং দীর্ঘ হায়াত দান করুন। যাতে দেশবাসির জন্য কাজ করে সোনারবাংলা গড়তে পারেন।আমৃত্যু বাংলাদেশ ও দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দান করুন।

সূত্রঃ হাওর বার্তা ২৪ ডটকম 

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর