,



গণতন্ত্র চর্চা কেবল কবরেই সম্ভব : খালেদা

গতকাল সোমবার রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকতা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন এবং কাশিমপুর কারাগারের সামনে সাবেক সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী দুর্বৃত্তদের গুলিতে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি স্বস্তি, নিরাপত্তা এখন লাশবাহী গাড়িতে।  ভোটারবিহীন সরকার সহিংস রক্তপাত ঘটানো ছাড়া তাদের টিকে থাকার অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই সেহেতু খুন-জখম টিকিয়ে রাখাকেই তারা পরিত্রাণের পথ মনে করছে।  যেকোনো হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের স্বার্থে অতি অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী রচনা করা আওয়ামী লীগের স্বভাবধর্ম। কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও বিদেশি হত্যার ঘটনাগুলোতেও তারা একের পর অপপ্রচার চালিয়েছে।

বেগম


জিয়া বলেন, বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।  ভোটারবিহীন সরকারের এসব অপকৌশল মূলত প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া ও আসল অপরাধীদের আড়াল করা।  তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বি তনয় এবং রুস্তম আলী পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকেই নিতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যতই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করা হোক না কেন, জাতীয় অর্থনীতির হরিলুট, রাজকোষ চুরির ঘটনা জনগণের দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারবেন না।  ভোটারবিহীন এ সরকারকেই এর জন্য জনগণের কাছে একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বিপজ্জনক।  দেশের মানুষ আতঙ্কে দিন যাপন করছে।  ব্যাঙ্কার, শিক্ষক, এনজিওকর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, নারী, শিশুসহ অনেককেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন দিতে হয়েছে।  সরকার সর্বক্ষেত্রে একচেটিয়াত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে গণতন্ত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ভারসাম্যকেও চরমভাবে ভেঙে ফেলেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের সব অঙ্গ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।  চারিদিকে অরাজকতারই জয়জয়কার।  দেশে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত, অপহরণ, গুম, মুক্তিপণ আদায়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আধিপত্য বিস্তার করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের মুখে টু শব্দ শুনলেই সেই মানুষের টুটি টিপে ধরার জন্য ধেয়ে আসে রাষ্ট্রযন্ত্র। মনে হয়, আমরা যেন একটি পিশাচ দ্বীপে বসবাস করছি।  সুস্থ পরিবেশে গণতন্ত্র চর্চা এখন কেবলমাত্র কবরেই সম্ভব।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা উৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে, ব্যালট পেপারে বেপরোয়া সীল মারে এবং অস্ত্রের মুখে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়; খুন-জখমসহ নানাবিধ অনাচারে লিপ্ত থেকে দেশকে অতল গহব্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর ভরসা পায় না।

তিনি জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু সাংবাদিক মাহবুব রাব্বী তনয় এবং কারারক্ষী রুস্তম আলীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বেগম জিয়া।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর