,



জঙ্গিবিরোধী আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই : র‌্যাব ডিজি

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্য এলেও আত্মতুষ্টি নেই র‌্যাব প্রধান বেনজীর আহমেদের। তিনি মনে করেন, জঙ্গি নির্মূল একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায়। আর্টিজান হামলার দুই বছর পূর্তিতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ভবনটিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রেস্টুরেন্টে খেতে আসা দেশি-বিদেশিদের জিম্মি করে জঙ্গিরা। খবর পেয়ে ছুটে যায় র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। তারা ঘেরাও করে রাখে চার পাশ। পরে যোগ দেয় সেনাবাহিনী। আর পরদিন সকালে সামরিক বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে। নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি।

মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করতে আসা সাত জাপানি এবং ইতালির পোশাক শিল্পের ক্রেতাসহ আটজনসহ ১৭ বিদেশি নিহতের ঘটনাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের এই হামলার দায় স্বীকার, এক সপ্তাহ পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলা চেষ্টার পর আতঙ্ক ছড়ায় ব্যাপক মাত্রায়।

এর মধ্যে বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের প্রতি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। এরপর পাল্টা অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রামে একাধিক অভিযানে হত্যা করা হয় সন্দেহভাজন ৫০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে। আর এরপর থেকে জঙ্গিদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এখনই আত্মতুষ্টির কোনো কারণ নেই। কারণ জঙ্গিবাদ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।’

‘বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ জঙ্গিটিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত আমরা অভিযান অব্যাহত রাখব। সরকারের নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ অভিযান চালাব।’

‘হলি আর্টিজানের হামলার দিনে আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দমন করেছি। গত দুই বছরের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বকে সিগন্যাল দিতে সক্ষম হয়েছি যে, বাংলাদেশ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় নয়। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ বরদাশত করবে না।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর