,



সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে ৭৪৪৮ ফ্ল্যাট

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৭ হাজার ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৫২৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ছয় ইউনিট বিশিষ্ট সাতটি ২০ তলা ভবনের প্রতিটিতে ১০৬৪টি করে ফ্ল্যাট থাকবে। এর মধ্যে চারটি ভবনে ১২৫০ বর্গফুটের এবং বাকি তিনটি ভবনে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট থাকবে।

বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেই ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয়প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। বৈঠকে মোট আটটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে সাতটি ফ্ল্যাট নির্মাণের এবং অপর একটি নির্মাণ কাজের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব। এবারের সবগুলো ক্রয়প্রস্তাবই ছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ১ নম্বর ভবনে ছয় ইউনিট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনে ১২৫০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ১০৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদারি সংস্থা কুশলী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

একই এলাকায় ২০ তলা বিশিষ্ট অপর একটি ভবনেও ১২৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট ১০৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অপর একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামাল অ্যান্ড কোম্পানি এবং হাসান অ্যান্ড কোম্পানি।

প্রকল্প এলাকার ৬ নং ভবনেও ১২৫০ বর্গফুটের ১০৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৭১ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মেসার্স মাসুদ অ্যান্ড কোম্পানি এবং জামাল অ্যান্ড কোম্পানি। ৫ নং ভবনে ১২৫০ বর্গফুটের ১০৬৪ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কাজ পেয়েছে মজিদ কন্সট্রাকশন লিমিটেড।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২০ তলা বিশিষ্ট তিনটি ভবন নির্মাণ করা হবে। এ তিনটি ভবনের প্রতিটি ভবনে ১৫০০ বর্গফুটের ১০৬৪টি করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬ নং ভবনের কাজ পেয়েছে জামাল অ্যান্ড কোম্পানি। ব্যয় হবে ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ৯ নং ভবনের কাজ পেয়েছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ১০ নং ভবনের কাজ পেয়েছে কুশলী নির্মাতা পতিষ্ঠান। ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়াও বৈঠকে গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য সুউচ্চ আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে ব্যয় বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তাতে ৩৪ কোটি ৪১ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব।

এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মোট চারটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর