,



যে কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে মরিয়া মেসি-বার্সা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  অধিনায়ক লিওনেল মেসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগকেই ‘এক নম্বর লক্ষ্য’ বানানো উচিত বার্সেলোনার। বার্সার কোচ-কর্তা এবং অন্য খেলোয়াড়দের চাওয়াও তাই-যে করেই হোক জিততে হবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তা ইউরোপের প্রতিটি বড় ক্লাবই প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় বার্সেলোনার ক্ষুধাটা এবার বেশি অন্য একটা কারণে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের একচ্ছত্র রাজত্ব একদমই সহ্য হচ্ছে না বার্সার।

বলা যায়, গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে। এবার যে করেই হোক রিয়ালের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিয়ে সেই জ্বালা জুড়াতে চায় বার্সেলোনা। ক্ষুধাটা এবার এতোটাই তীব্র যে, বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরুই করছে একমাত্র শিরোপার ছবি এঁকে। ইউরোপের ঘরোয়া লিগগুলো মাস খানেক আগে শুরু হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বের দ্বৈরথ শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে। আর মঙ্গলবার উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামছে বার্সেলোনা। নিজেদের ঘরের মাঠ ন্যু-ক্যাম্পে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দোহোপেন। মেসি-সুয়ারেজরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামছে শিরোপার নেশায় বুদ হয়ে।

গত তিন বছরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মানে ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক করেছে রিয়াল। বিপরীতে ওই তিন বছরই বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

২০১৫-১৬ মৌসুমে শেষ আটে বার্সার স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেনের ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতা নিয়ে সেমিতে পা রাখে অ্যাতলেটিকো। বার্সাকে নিতে হয় বিদায়। পরের দুবারই মেসির বার্সার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে ইতালির দুই ক্লাবের কাছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় জুভেন্টাসে। গত মৌসুমে সেই কোয়ার্টার ফাইনালেই বার্সেলোনাকে কাঁদায় এএস রোমা।

এমনকি ন্যু-ক্যাম্পের প্রথম লেগে ৪-১ গোলের জয়ের পরও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাঁদতে হয় মেসিদের। কারণ, ফিরতি লেগে রোমা ৩-০ গোলে জিতে লেখে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ হলেও একটি অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে সেমিতে পা রাখে রোমা।

এই যে টানা তিন বছর কোয়ার্টার ফাইনালেই স্বপ্নভঙ্গ বার্সার, এর সবচেয়ে বড় দায়টা মেসির। তিন বছরে ৩ কোয়ার্টার ফাইনালের ৬ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। তিনিই বার্সেলোনার প্রধান গোল-মেশিন। সেই মেসিই যদি ৬ ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারেন, দলকে ডুবতে তো হবেই।

চরম এই ব্যর্থতাই মেসিকে তাড়না দিচ্ছে বেশি করে। প্রয়োজনীয় সময়ে গোল করতে না পারার ব্যর্থতা তো আছেই। মেসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছে অন্য আরেকটা বড় কারণও। ব্যক্তিগত বড় পুরস্কার না জিততে পারার ক্ষুধা। মূলত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাফল্যের উপরই নির্ভর করে ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি।

বার্সেলোনা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছিল ২০১৫ সালে। মেসি নিজের সর্বশেষ ব্যালন ডি’অরও জিতেছিল সে বছরই। চ্যাম্পিয়ন্স ব্যর্থতার কারণে এর পর আর মেসির হাতে বড় কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার উঠেনি। গত দুই বছরই ব্যালন ডি’অর, ফিফা বর্ষসেরা এবং উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রানারআপ হয়ে। আর এবার তো মেসি ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়েই টিকছেন না।

উয়েফার বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই ছিলেন না মেসি। মেসি নেই ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারের দৌড়েও। সবচেয়ে মর্যাদার ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও মেসি থাকতে পারবেন কিনা, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদি তালিকায় থাকেনও, তার পুরস্কারটি পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

দলীয় এবং ব্যক্তিগত, দুই কারণেই তাই মেসি এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে মরিয়া। যে করেই হোক ক্লাব বার্সাকে শিরোপা মুকুট পরিয়ে নিজেও আবার মাথায় তুলতে চান ‘সেরা’র পুরস্কার তকমা।

স্পেনের ঘরোয়া লিগ লা লিগায় মেসি এবং বার্সেলোনা, দুইয়েরই শুরুটা হয়েছে দারুণ। বার্সা ৪ ম্যাচেই জিতেছে। মেসি ৪ ম্যাচেই করেছেন ৪ গোল। কিন্তু এই সাফল্য বিবর্ণ হয়ে যাবে যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন। যদি গোল করতে ব্যর্থ হন। মেসি পারবেন লিগের পারফরম্যান্সকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টেনে এনে নিজের ঠিক করে নেওয়া লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যেতে?

শুধু বার্সেলোনা-পিএসভি নয়, মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আরও ১৪টি ক্লাবটি। তবে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলী দৃষ্টিটা থাকবে অ্যানফিল্ডের দিকেই। সেখানে যে প্রথম দিনেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান রানার্সআপ লিভারপুল ও তারকাখচিত পিএসজি।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলো মাঠে নামবে বুধবার।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর