,



সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ তুমুল আলোচনা শেষে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিপত্র জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কোটা বাতিলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের একদিন পর বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ পরিপত্র জারি করল। জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই পরিপত্র জারির মাধ্যমে এখন থেকে ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) ও ১০ গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগদান করা হবে। এসব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকার সকল সরকারি দফতর, স্বায়ত্বশাসিত/আধা-স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়েগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৭/০৩/১৯৯৭ তারিখের সম(বিধি-১)এস-৮/৯৫(অংশ-২)-৫৬(৫০০) নং স্মারকে উল্লিখিত কোটা পদ্ধতি নিম্নরূপভাবে সংশোধন করিল:

(ক) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হইবে; এবং

(খ) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম ডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হইল।’

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা দীর্ঘ দিনের। বিভিন্ন সময়ে কোটা পদ্ধতির সংস্কার, পরিমার্জন ও পরিবর্তন হয়েছে। এবার সরাসরি বাতিল করা হলো।

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, পশ্চাদপদ জেলাগুলোর জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি চালু ছিল।

কিন্তু সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কোটা সংস্কারের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতি বাতিল করার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে এটা নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এই পরিপত্র জারি করা হলো।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর