,



দেশে নিরাপত্তার অভাব, মানুষ পরিবর্তন চায়

মাত্র দুটি লাশ পড়েছিল- মিলন আর নূর হোসেন। আমি এই ঘটনার পর রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলাম। আর এখন দেশে লাশের গণমিছিল হচ্ছে। প্রতিদিন মানুষ মরছে।’  শনিবার সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় পার্টি আয়োজিত বিশাল জনসভায় এ কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ।

 

জনগণের ভোট, দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে জনসভায় তিনি বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় আমাকে আরেকটিবার সুযোগ দিন। আমি আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবো। বেকারত্ব দূর করবো। খুন, গুম ও অপহরণ বন্ধ করবো।’

 

দেশে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে মানুষ গুম-খুন হচ্ছে। কিন্তু এর প্রতিকার হচ্ছে না। দেশ ও মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন। এভাবে চলতে পারে না। মানুষ পরিবর্তন চায়।

 

এরশাদ বলেন, প্রতিদিন মানুষ মরছে, গুম-খুন-ধর্ষন বাড়ছে। কিন্তু এসবের বিচার হচ্ছে না। দু:খ লাগে এই কি আমার দেশ, স্বাধীন দেশ।

 

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, কিভাবে বিগত নির্বাচন হয়েছে আমরা সবাই জানি। এটা সঠিকভাবে হয়নি। তবে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হবে।

 

আবারও প্রাদেশিক সরকারের দাবি তুলে এরশাদ বলেন, দেশে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু হলে জনগণ এর সুফল পাবে। এক ব্যক্তির পক্ষে ১৬ কোটি মানুষকে শাসন করা সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে বলে জানান জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।

 

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর সিলেটের মানুষ আমার প্রাণ রক্ষা করেছিল। তারা ভোট দিয়ে আমাকে অনেকগুলো আসন উপহার দিয়েছিল। সিলেটের মানুষের এ ভালোবাসা না পেলে আমাকে হয়তো ফাঁসিতে ঝুলতে হতো।

 

ক্ষমতা ছাড়ার পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল ক্ষমতা ছাড়লে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু পরে আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পার্টি আবারও ক্ষমতায় যেত।’

 

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, সৈয়দ আবু হাসান বাবলা, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, এসএম ফয়সল চিশতী প্রমুখ।
Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর