,



গোয়াইনঘাটে পানির জন্য হাহাকার, কৃষি আবাদ ব্যাহত

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ গোয়াইনঘাটে হাওরসমূহে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। চার দিকে খাল বিল শুকিয়ে চৌচির। এঁটেল এবং দো-আঁশ মাটির এসব এলাকায় মাটি ফেটে ধানক্ষেতে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। খাল এবং বিলে পানি না থাকার কারণে বিপাকে পড়েছেন গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলংয়ের বাওন হাওরের গুরু চাষে জড়িত থাকা কয়েক শতাধিক কৃষক পরিবার। মাটি এবং বালি ভরাট হয়ে ছোট খালসমূহ আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিলসমূহে পানি না থাকায় চলতি বোরো মৌসুমের বাম্পার ফলন থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে এখানকার চাষিদের।

পূর্ব জাফলংয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মফিজুর রহমানসহ শংকিত কৃষকদের সঙ্গে শুক্রবার সকালে পূর্ব জাফলং বাওন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠে কাজ করছেন অগণিত কৃষক। সবুজ সমারোহে আরেক প্রান্তর যেন মেলে ধরেছে বাওন হাওরের বুক। এখানে ক্ষেতের আল ধরে এগুলে কৃষকদের মুখে হাসি থাকার কথা থাকলেও তাদের মুখে হাসি নেই। প্রকৃতির কৃপণতা যেন তাদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। পানির জন্য হাহাকার করছে প্রতিটি ফসলি জমি। এক সময়ের বন জঙ্গলময় বাওন হাওরজুড়ে এখন ফসলের বিশাল মাঠ। প্রতি বছরই এখানে ফলে রবি শস্য আর বোরো ধান। এখানকার কৃষি কাজে নিয়োজিত থাকা কৃষকগুলোর মুখে ফসল উৎপাদনে তৃপ্ত হাসি থাকলেও তাদের মনের হাসি নিভে গেছে।

হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেল সেখানকার ছোট ছোট খালসমূহে ডিঙ্গি নৌকা পড়ে আছে। ফসলি জমিগুলা সবুজ বোরো ধানে ভরে উঠেছে। সরজমিনকালে পাওয়া যায় মুসলিমনগর, কালিনগরসহ আশপাশের এলাকার রমজান আলী, ইমান আলী, আব্দুর রাজ্জাক রেজাই, ফরহাদ আলী, আব্দুল মজিদ, আব্দুস ছালাম, হাসমত আলী, সুলেমান মিয়া, জিয়াউর উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, হজরত আলী, খলিলুর রহমানসহ আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের কৃষকদের। তারা জানান পূর্ব জাফলংয়ের বাওন হাওরে সরকারি খাস জমিনির্ভর ক্ষেতসমূহ জেএল নং- ১০৮, খতিয়ান নং-০১, দাগ নং-এসএ- ১২, বিএস- ৩৭, খতিয়ান নং- ০১, দাগ নং-এসএ- ২৪, বিএস- ৭৫-এর অন্তর্ভুক্ত ২০০ একরের ও বেশি ভূমি তারা প্রতি বছর চাষাবাদ করে থাকেন।

এবারও অন্যান্য বছরের মতো রবি শস্যের মতো বোরো আবাদ করেছেন। তারা বোরো ফসলের বাম্পার ফলনে আশাবাদীও ছিলেন। এমতাবস্থায় খাল বিলসমূহে বালি, মাটি ভরাট হয়ে পানি শুকিয়ে গেছে। যে কারণে পানি সেচের কোনো ব্যবস্থা নেই। রূপায়িত বোরো ফসল ক্ষেতে পানির সেচ না দেয়ায় ফসলের মাঠ জোড়ে হলদে আবরণ ধরতে শুরু করেছে। আতঙ্কিত এসব কৃষক জানান, দ্রুত পানির সেচের ব্যবস্থা না করলে ফলাফল প্রাপ্তি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রূপায়িত বোরো ফসলের মাঠও বিনষ্ট হবে। প্রতিটা ধানক্ষেতে ফাটল দেখা দিয়ে মাটি আলগা হয়ে গেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলা অসহায় কৃষকরা জানান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বাওন হাওরে খাল খনন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সমূহ এই ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারেন। কৃষক রমজান আলী জানান, আমাদের মতো প্রান্তিক খেটে খাওয়া কৃষকরা এই বাওন হাওর জুড়ে চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে থাকি। সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ অনতি বিলম্বে বাওন হাওরের পানির সংকট নিরসনে দ্রুত খাল খনন করে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর। বাওন হাওর ফসল রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করে ইমান আলী নামক কৃষক জানান বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।

খাল খননসহ বোরো ক্ষেতের পানি সেচের ব্যবস্থার জন্য আমরা প্রশাসনে আবেদন করেছি। আশা করি আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সিলেটের গোয়াইনঘাটের কৃষি অফিসার এম আনিছুজ্জামান জানান, গোয়াইনঘাটের হাওরসমূহে ৯ হাজার হেক্টরের মতো জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পূর্ব জাফলংয়ে ৪০০ শত এর মধ্যে ২০০ হেক্টর ফসল ফলানোর তথ্য আমাদের কাছে আছে। বাওন হাওর এলাকার কৃষকদের পানি সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা আমরা অবহিত হয়েছি। তাদের সমস্যাটি সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিভিন্ন প্রকল্পও আছে। কৃষকরা উদ্যোগী হলে বিষয়টি সরকারের নজরে নিয়ে এসে বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, কৃষি এবং কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন, কৃষকদের বিদ্যমান সব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক। পূর্ব জাফলংয়ের বাওন হাওরের কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর