,



৯০ বছর বয়সী অন্ধ ১ বৃদ্ধার আশ্রয় হয়েছে গোয়ালঘরে

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ৯০ বছর বয়সী অন্ধ এক বৃদ্ধার আশ্রয় হয়েছে গোয়ালঘরে। গত তিন বছর ধরেই মশার কামড় খেয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিয়মিত জুটছে না তার খাবার। এভাবেই বিনাচিকিৎসায় গোয়ালঘরে জীবনের বাকিটা সময় পার করছেন এ বৃদ্ধা।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ি গ্রামের এক গোয়ালঘরে এমন অবস্থায় পাওয়া গেল সরবানু নামে এক বৃদ্ধাকে। স্বামীর ভিটার উত্তর পাশে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর। ঘড়টির চারপাশ প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা, আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সেখানেই একটি ভাঙা চৌকিতে শুয়ে আছেন অন্ধ ও অচল সরবানু।

একজন বৃদ্ধার এমন করুণ দশা দেখলে যে কারও মন ডুকরে কেঁদে উঠবে।

ওই বৃদ্ধার প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার সেলিমা বলেন, এ ঘরটি বসবাসের জন্য একেবারে অযোগ্য। কী গরম কী শীত! মশার সঙ্গে এভাবেই দিনযাপন করছেন সরবানু।

তিনি জানান, ‘চোখে আর দেখতে পান না সরবানু। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। কেউ খাবার এনে দিলে খান, না দিয়ে গেলে অভুক্তই পড়ে থাকেন।’

পাঁচ সন্তানের জননীর ঠাঁই কেন গোয়ালঘরে হলো-এ প্রশ্নের জবাবে আকলিমা জানান, ‘সরবানুর সন্তানরা সচ্ছল নন। নিজেদের পরিবার চালাতেই হিমশিম খান তারা।

তিনি বলেন, ১০ বছর আগে একদিন মাটিতে পড়ে পায়ে ব্যথা পান সরবানু। অর্থের অভাবে ছেলেরা উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তার। ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়েন তিনি। একদিন পুরোপুরি অন্ধও হয়ে যান। যে কারণে বিছানাতেই প্রাকৃতিক কর্ম সারতে হয় তাকে। এমন অথর্ব বৃদ্ধা মাকে ছেলেরা একদিন পাশের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরের একটি ভাঙা চৌকিতে শুইয়ে দিয়ে আসেন। সেই থেকে তিনি এখানে থাকছেন।’

এসব বলে কান্না জর্জরিত কণ্ঠে আকলিমা ক্ষোভ প্রকাশের সুরে বলেন, ‘টাকা-পয়সা না দিয়ে হোক, মায়ের সেবা তো করতে পারেন তারা। তা না করে বিরক্ত হয়ে গোয়ালঘরে রেখে এসেছেন মাকে।’

জানা গেছে, উপজেলার বাঘড়ি এলাকার মৃত তাহের মল্লিকের স্ত্রী সরবানু। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েরা পরের ঘরে চলে গেছেন। বড় ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাকি দুই ছেলে দিনমজুর।

আকলিমা জানান, দুপুর হয়ে গেল কিন্তু এখন পর্যন্ত সরবানুর ভাগ্যে জুটেছে মুড়ি আর গুড়।

সরবানুর এমন হাল প্রসঙ্গে তার দুই পুত্রবধূ জানান, ‘আমরা নিজেরাই অনেক গরিব ও অসহায়। প্রতিদিনের খাবার জোগাতে আমাদের সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়। মাকে দেখার সময় পাই না। আমরা না পারি তার চিকিৎসা করাতে, না পারি তাকে ভালো খাওয়াতে।’

নিজের এলাকায় এমন অশীতিপরের করুণ জীবনযাপন বিষয়ে আগে ওয়াকিফহাল ছিলেন না রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ বৃদ্ধার বিষয়ে আমি জানতে পেরে দেখতে গিয়েছিলাম তাকে। সন্তানদের অবহেলা ও অবজ্ঞার জন্যই আজ তার এ দুরবস্থা। পিঁপড়া আর মশার কামড়ে জর্জরিত হয়ে গোয়ালঘরে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানরা তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে আজ এমন অচল হতেন না তিনি।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হককে এরই মধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারি সফরে এখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায়। সরবানুকে দ্রুত শিশুসদনে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর