,



শাওয়ালের ছয় রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বান্দার উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ অপরিসীম। রমজানে মাসব্যপী সিয়াম সাধনার পর বাকী এগারো মাস যেনো এই শিক্ষা হারিয়ে না যায় সেজন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে ফজিলতপূর্ণ নফল রোজার বিধান দিয়েছেন। তন্মধ্যে শাওয়ালের ছয় রোজা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

হজরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, নবি করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখলো ও রমজানের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেনো সারা বছর রোজা রাখলো। (সহীহ মুসলিম : হাদিস নং-১১৬৪)।

শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার এই আমলটা কতই না সহজ, কিন্তু এর ফজিলত কতই না মহান! কারো পক্ষে লাগাতার এক বছর রোজা রাখা সম্ভব নয়। অথচ এই আমলের মাধ্যমে যে কারো জন্যই সারা বছর রোজা রাখার ফজিলত অর্জন করা সম্ভব।

আল্লামা ইবনে রজব রহ. বলেন, শাওয়াল মাসে রোজা রাখার তাৎপর্য অনেক। রমজানের পর রোজা রাখা রমজানের রোজা কবুল হওয়ার আলামত স্বরূপ। কেননা, আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দার আমল কবুল করলে, তাকে পরবর্তীতে অনুরুপ আমল করার তাওফীক দিয়ে থাকেন। তাছাড়া কিয়ামতের দিন ফরজ রোজায় কোনো ঘাটতি দেখা দিলে নফল রোজা দিয়ে তা পূরণ করা হবে। অতএব, নফল রোজাগুলোর মধ্যে শাওয়ালের ছয় রোজার গুরুত্ব অনেক বেশি।

কাজা রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজার নিয়্ত একসাথে করা যাবে না: একই দিন রমজানের কাজা রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজার নিয়ত একসাথে করা যাবে না। প্রথমে কাজা রোজা আদায় করে পরে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা উচিত। শাওয়ালের ৬ রোজার সাওয়াব লাভের জন্য পৃথকভাবে নফল রোজা রাখতে হবে। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪৫)।

শাওয়ালের রোজা লাগাতার রাখা জরুরি নয় : শাওয়ালের রোজাগুলো একাধারেও রাখা যায় আবার বিরতি দিয়েও রাখা যায়। তবে বিরতি দিয়ে রাখাই উত্তম। (মুসলিম : ১/৩৬৯, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৩৮)।

নফল রোজা শুরু করলে পূর্ণ করা ওয়াজিব : ফরজ ও ওয়াজিব ছাড়া বাকি সকল রোজাই নফল। নফল রোজা শুরু করলে পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে ভাঙলে কাজা করা আবশ্যক। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভাঙ্গা জায়েজ নেই। নফল রোজার নিয়্ত দ্বিপ্রহরের দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত করা যাবে। এমনিভাবে রোজার নিয়ত করার পর এ সময়ের মধ্যে ইচ্ছা করলে নিয়্ত পরিবর্তনও করা যাবে।

লেখক, নায়েবে মুফতি, ইসলামিক ফিকাহ একাডেমী, ঢাকা

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর