,



যে পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বছরে মাঠে নামছে ইসলামিক দলগুলো

নতুন বছরে মাঠ গরম নয়, বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পদক্ষেপ নেবে দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো।  একই সঙ্গে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টিতে উদ্যোগী হওয়ার কথাও বলছেন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারা।

২০১৬ সালে ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থাকলেও রাজনৈতিক ইস্যুতে বরাবরই নিষ্ক্রিয় ছিলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো।  তবে নতুন বছরে শক্তি ক্ষয় না করে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।  একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দল গোছানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তারা।

দেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে বেশ কিছু দল।  এর মধ্যে ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ দীর্ঘ দুই যুগের সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে এবছর বের হয়ে আসে বিএনপির জোট থেকে।  ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক ‘খেলাফত মজলিস’ সীমিত আকারে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকলেও ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’ ছিল কোন্দলে জর্জরিত।

বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোটের বাইরে থাকা ‘বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন’ ও ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’ ছিল একেবারেই আলোচনার বাইরে।  ক্ষমতাসীন আওয়ামী জোটে থেকে এবং দলে একাধিক সংসদ সদস্য থাকায় বেশ দাপটে ছিল ‘তরিকত ফেডারেশন’।  সরকারের সুনজরে আসতে ২০১৬ সালে তৎপর ছিল ‘বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি’। এছাড়া, ‘জাকের পার্টি’, ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট’,  ‘ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’, ‘গণতান্ত্রিক ইসলামী ঐক্যজোট’, ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’সহ বেশ কিছু দল নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসাবে দাবি করলেও রাজপথে তাদের তৎপরতা ছিল না। বরং ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনেই তারা ছিল বেশি সক্রিয়।

গত ২৫ ডিসেম্বর সাধারণ সভায় ‘খেলাফত মজলিস’


এর আমির নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক এবং মহাসচিব নির্বাচিত হন ড. আহমদ আবদুল কাদের।  নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী বছরে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগের কথা জানান আহমদ আবদুল কাদের।  তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনের কর্মসূচি কী হবে। দেশের ধর্মভিত্তিক দলগুলো এখন নিয়ন্ত্রকের অবস্থানে নেই। চেষ্টা করছি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম কোনও ঐক্য সৃষ্টি করা যায় কি না। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয় না, বরং গোলমাল হয়। বিশেষ করে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।  নির্বাচন কমিশন যদি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হয়, তবে এতে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।’

রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাইরে থেকে অনেকেই হয়ত বুঝতে পারছেন না, কিন্তু সরকার এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে কেউ কথা বলতে পারছেন না। মনে হবে গণতন্ত্র আছে, আসলে মিছিল করা যাবে না, সমাবেশ করা যাবে না, কথা বলা যাবে না। সাধারণ বিষয় নিয়েও প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না সরকার।’

২০১৬ সালের শুরুতেই (৭ জানুয়ারি) চাপা ক্ষোভ, সরকারের ক্রমাগত চাপ ও সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ ত্রি-বার্ষিক কনভেনশনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।  সারা বছরে দলটি বেশ কয়েকটি জেলায় সম্মেলন করে।  তবে জোট থেকে বেরিয়ে বড় দাগে প্রভাব ফেলতে পারেনি দলটি।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি, সেক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি না হলেও সফল। তবে সামগ্রিকভাবে ইসলামী দলগুলোর যতটা জোয়ার থাকার কথা ছিল, ততটা জোয়ার দেখা যায়নি।  নানাভাবে ইসলাম বিরোধীদের প্রতিহিংসার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে আগামীতে ইসলামী দলগুলো আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। সেজন্য আমাদের চেষ্টা থাকবে।’

অন্তঃকোন্দলে আক্রান্ত ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’।  ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে বেশ নাটকীয় ভাবে দলটির মহাসচিব পদে আসেন  মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। আর মুফতি ওয়াক্কাসকে নির্বাহী সভাপতি করা হয়। এরপর থেকেই দলটি বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এবছর জুড়ে নেতা কেন্দ্রিক কিছু কর্মসূচি পালিত হলেও দলীয়ভাবে ছিল নীরবতা।

এছাড়া, রমজান মাসে অনেকটা ‘আত্মমর্যাদা রক্ষা’ ও সম্পর্ক উন্নয়নে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে সক্রিয় ছিল। দলের অভ্যন্তরে এবং অন্যদলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য ইফতার মাহফিল ছিল চোখে পড়ার মতো।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে এবছর সবচেয়ে বেশি কর্মসূচি পালন করেছে চরমোনাই পীরের দল ‘ইসলামী আন্দোলন’। দলটির নেতারা সারাদেশে ওয়াজ-মাহফিলসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  প্রায় সব ইসলামী দলের কার্যক্রমে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এ দলটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল।  তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ‘ইসলামী আন্দোলন’কেও পড়তে হয়েছিলো বাধার মুখে।

দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘দেশে মুক্তভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে না।  জেলা-উপজেলা পর্যায়েও কর্মসূচি পালনে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমাদের দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে জেলা-উপজেলায় তৎপরতা ছিল। তবে মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আগামী দিনে সব দলের আরও সোচ্চার হওয়া জরুরি।   ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা না করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন। ঐক্য সৃষ্টির জন্য আমাদের সব সময় আন্তরিক হতে হবে।  তবে সেই ঐক্য কোনও সাময়িক সুবিধা আদায়ের জন্য হোক, আমরা সেটা চাই না।’ -বাংলা ট্রিবিউন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর