,



খাদের কিনারে দুই বাংলার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র

বাঙালী কন্ঠ ডেস্কঃ দর্শক খরা থেকে মুক্ত হয়ে কোনোভাবেই ছন্দে ফিরতে পারছে না এপার-ওপার তথা দুই বাংলার চলচ্চিত্র। বিশেষ করে বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র একের পর এক মুখ থুবড়ে পড়ছে। এমনকি তারকাবহুল কোনো ছবিও লগ্নি ফেরত আনতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে ভীষণ হতাশা বিরাজ করছে ঢালিউড এবং টলিউডে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। দুই বাংলার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির আয়ের পরিসংখ্যানও তা-ই বলছে। তবে ওপার বাংলার চলচ্চিত্রের চেয়েও বেশি নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে রয়েছে বাংলাদেশি সিনেমায়। লোকসানের ভয়ে শাকিব খানের মতো শীর্ষ তারকার সিনেমাও মুক্তি দিতে সাহস পাচ্ছে না লগ্নিকারকরা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৩৪টি ছবি মুক্তি পেলেও একমাত্র ‘পাসওয়ার্ড’ ছাড়া কোনো ছবিই ব্যবসা করতে পারেনি। যদিও ‘পাসওয়ার্ড’-এর বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত মৌসুমী ও আনিসুর রহমান মিলনের ‘রাত্রীর যাত্রী, সিয়াম আহমেদ ও নুসরাত ইমরোজ তিশার ‘ফাগুন হাওয়া, শামীমুল ইসলাম শামীম পরিচালিত ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, তারেক শিকদার পরিচালিত ‘দাগ হৃদয়ে’, বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘অন্ধকার জগত’, রাজিবুল হোসেনের ‘হৃদয়ের রংধনু’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘যদি একদিন’, তাসকিন রহমান অভিনীত ‘বয়ফ্রেন্ড’, ববি ও শাকিব খান অভিনীত ‘নোলক’ ও শাকিব বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’সহ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। এসবের মধ্যে হতাশ করেছে ‘ফাগুন হাওয়া’ সিনেমাটি। টেনেটুনে দুই সপ্তাহ হলে চললেও লাভের মুখ দেখেনি ছবিটি। ‘রাত্রির যাত্রী’র অবস্থা ছিল আরও খারাপ। প্রথম সপ্তাহে ২০টি সিনেমাহল পেলেও পরের সপ্তাহে সিনেমাটিকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল হল মালিকরা। এমনকি প্রযোজকরা এ দুই ছবির পুঁজির ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেননি। এর কিছুদিন পর মুক্তি পায় ডিএ তায়েব ও মাহিয়া মাহির ছবি ‘অন্ধকার জগত’। প্রথম সপ্তাহে ৬০টি হল পেলেও পরের সপ্তাহে হতাশ করেছে সবাইকে। এভাবে ফ্লপের খাতায় নাম লেখাতে লেখাতে গত মাসেও এর পরিবর্তন হয়নি। গেল মাসে মুক্তি পাওয়া মাহিয়া মাহির ‘অবতার’ ও ইয়াশ-তিশার ‘মায়াবতি’ ছবি দুটি মুক্তির আগে আলোচনায় থাকলেও মুক্তির পর দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মীম অভিনীত ‘সাপলুডু’। প্রথম সপ্তাহে ৪২টি হল নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এ ছবির ভবিষ্যৎ সুখকর হবে না বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। এদিকে চলতি মাসেও নতুন ছবির সংকট দেখা দিয়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বর্তমান সময়ে হলে গিয়ে দর্শক সিনেমা দেখছেন না। এর কারণ নির্মাণ শৈাল্পিক গল্প উপস্থাপনা। এছাড়াও বর্তমানে অনেক পরিচালকই তামিল সিনেমা কপি করে বাংলা সিনেমা নির্মাণ করে। যার কারণে হলে সিনেমা দেখতে আসে না। সিনেমা যদি মৌলিক ও নিজস্ব সংস্কৃতিতে তৈরি হয় তাহলে হলে দর্শক অব্যশই আসবে।’
অন্যদিকে একই চিত্র দেখা গেছে কলকাতার বাণিজ্যিক সিনেমায়ও। দেব, জিত, অঙ্কুশ এমনকি প্রসেনজিতের মতো মেগাস্টারদের সিনেমা ফ্লপ হচ্ছে একের পর এক। কলকাতা সিনেমাসংশিষ্টদের দাবি কেবল হিন্দি সিনেমার দৌরাত্ম্য এবং সিনোহলে মুক্তির আগেই টিভিস্বত্ব বিক্রয় করার কারণেই চলচ্চিত্রের এই নাজকু পরিস্থিতি। এই দুইয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে রীতিমতো অস্তিস্ব সংকটে পড়েছে কলকাতার বাংলা সিনেমা। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবার পূজায় হলগুলোতে বাংলা ছবি দেখানোর জন্য হল মালিকদের মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিশ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ সমস্যা থেকে উতরে উঠার চেষ্টা করলেও বিগত কয়েক বছরে মোটা দাগে কোনা পরিবর্তন আসেনি। উল্টো দিনকে দিন ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলা সিনেমা। দর্শক প্রতিনিয়ত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এ ছবি থেকে। এ বছর কলকাতায় বিগ বাজেটের ছবিগুলোর মধ্যে জিতের ‘শেষ থেকে শুরু’ ও দেবের ‘কিডন্যাপ’ কোনরকমে পুঁজি উঠিয়েছে। আর শুভশ্রীর ‘পরীণিতা’ ও বনির ‘পারবো না আমি ছাড়তে তোকে’র হল কালেকশন ছিল একেবারেই বাজে। ঢাকাই সিনেমা হোক আর কলকাতার; গল্পবিহীন ছবি রিমেক করে এখন আর দর্শক টানা যাবে না, এটা স্পষ্ট। এছাড়াও ছবির স্বত্ব টেলিভিশনে বিক্রি করায় দর্শক একটু একটু করে হলবিমুখ হয়েছে। সবমিলিয়ে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রি।
Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর