,



অশ্লীলতা বিবর্জিত কথা ও আচরণ

একটি পরিবার, একটি সমাজ, কিংবা একটি দেশের মানুষকে অশ্লীলতা বিবর্জিত কথা ও আচরণ শেখানোর জন্য আপনিই হতে পারেন একজন মডেল। এর জন্য আপনাকে পেতে হবে না নোবেল (পুরষ্কার), কিংবা আপনার থাকতে হবে না সহায়-সম্পত্তি অঢেল। বিদেশি পুরষ্কার আর টাকা-কড়ি ছাড়া, অশ্লীলতা বিবর্জিত কথা ও আচরণ শেখানোর মডেল হওয়া যায় নাকি?

এই বিষয়ে আপনার সন্দেহের আছে কিছু কি বাকি? কবিতার ছন্দে আজকের এই রম্য-রচনা। সমাজ-আদর্শের মডেল হয়েও আপনি অনেকের অচেনা! কী কারণে আপনার আজ এহেন অবস্থা? দুশ্চিন্তা না করে, নিতে পারেন যুগোপযোগী ব্যবস্থা। ও-হ, তাই নাকি! প্রিয় পাঠক, তা-বলছি বৈকি।

মানব সভ্যতা যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial intelligence) নিয়ে অগ্রসরমান, বাংলাদেশ তখন মধ্যযুগের ক্যান্নিবালিজম (Cannibalism) প্রথার দিকে ধাবমান! প্রিয় পাঠক, ক্যান্নিবালিজম হলো নরমাংস ভক্ষণ সমাজ। বাংলাদেশে সেই চিত্র দেখতে পাচ্ছেন আজ। সময়ের প্রেক্ষাপটে ক্যান্নিবালিজম ধারণ করেছে দুরারোগ্য দুর্নীতির মহামারিতে।

আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া লোকদের তাই, দেখতে পাচ্ছেন গাড়িতে। দিনের আলোতে ওরা দেখায় অশ্লীলতা বিবর্জিত আচরণ। রাতের বেলায় ওরাই আবার অশ্লীল জগতে করে বিচরণ। মিডিয়ার মাধ্যমে ওরাই জাগায় আপনার মনের, সমাজের এবং দেশের আশা। আবার, মাঝে-মধ্যে মিডিয়াতে ওদের কু-কর্মের কথা শুনে, আপনি-আমি হারিয়ে ফেলি জীবন-চরিত্রের ভাষা।

ওরা ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ মাছির মতো বিষাক্ত। স্বার্থের জন্য ওরা, অন্যকে করে রক্তাক্ত! নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন, ওরা কারা? সঠিক পথ দেখানোর পিতৃহীন-সন্তান যারা? নাকি, নীতি-নৈতিকতাহীন প্রশাসনের পোষ্য তারা? প্রশ্নগুলো থাকলো আপনার কাছে। উত্তরগুলো খুঁজতে পারেন ইতিহাসে। এখন, মনে মনে একটু হাসুন। আর, মনিষীদের কথা একটু ভালবাসুন।

পুঁথিগত বিদ্যাকে বলা যেতে পারে-নহে বিদ্যা নহে ধন…। মনিষীরা বলে গেছেন, এই বিদ্যাভ্যাস আপনাকে শেখাবে পরশ্রীকাতরতা এবং উপহার দিবে সংকীর্ণ মানসিকতা বা স্থূল চিন্তার এক কণ্টকাকীর্ণ বন। এই পুঁথিগত বিদ্যা আপনাকে আরও শেখাবে, অন্যকে দোষারোপের মাধ্যমে, কীভাবে ঢাকতে হবে নিজের অন্যায়, অশ্লীল কথা ও আচরণ। তাইতো, সমাজের সর্বত্রই দেখতে হচ্ছে মধ্যযুগের ক্যান্নিবালিজম প্রথার পরোক্ষ বিচরণ।

বর্তমান বিশ্বের অনেক সমাজের কর্ণধারগণ, মধ্যযুগের ক্যান্নিবালিজম প্রথা এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপকরণের সংমিশ্রণে নতুন চাদরে ঢেকে দিয়েছে আপনার-আমার আদর্শলিপির বিদ্যাভ্যাস। ঘরে-বাইরে সর্বক্ষেত্রে তাই অশান্তির আভাষ। রক্ষকরা ভক্ষক হয়ে সাধারণ মানুষকে মনে করে নিজেদের দাস-দাসী। নিজ দেশে আপনি তাই অনেকটাই পরবাসী।

নাগরিকদের চারিত্রিক সনদ কিনতে হয় যে দেশে। অবৈধ বিদেশীরা, দেশের সম্পদ তাই বিক্রি করেছে ছদ্মবেশে-অনেকটা হেসে হেসে। তারপরেও আছে আপনার বেঁচে থাকার আশা। পরিবার ও সমাজকে তাই বুঝাতে চান বাংলা মায়ের ভাষা। আদর্শ ও নৈতিকতা নিয়ে গড়ে ওঠা পরিবার। এই পরিবারে ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজন হয় না কোন দরবার (নালিশ, তোষামোদি বা লেজুড় ভিত্তিক ক্ষমতার অহংকার)।

প্রিয় পাঠক আপনার মনে রাখা প্রয়োজন, দেশের কর্ণধারদের ক্যান্নিবালিজম প্রথা রোধের আহ্বানে সাড়া দিবেন যখন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে সামনে রেখে, আদর্শলিপির বিদ্যাভ্যাস গড়তে পারবেন তখন। এবং একইসঙ্গে দেশের কর্ণধারদের প্রতিভা নিয়ে রাজনীতি এবং কূটনীতি করতে হবে বন্ধ। নতুবা মেক্সিকোর টিলটেপেক গ্রামের (Tiltepec Village, where everyone turns blind) মতো আমাদের সমাজ হবে অন্ধ।

আপনার-আমার মন অন্ধ সমাজ চায় না। আবার আপনাকে আমাদের সমাজ মডেল হিসেবে পায় না! পরিশেষে পাঠক ভাই, আপনাকে বলতে চাই- সর্বসময়ে, সব মানুষ আশা করে অশ্লীলতা বিবর্জিত কথা ও আচরণ। তাই, সমাজের আদর্শিক মডেল হিসেবে আপনাকে আমাদের অতীব প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর