,



এ কেমন কারাগার

বাঙালী কন্ঠ ডেস্কঃ সরকারিভাবে পাহারার ব্যবস্থা না থাকায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার উপ-কারাগারটি ভৌতিক অবকাঠামো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের পরিত্যক্ত এ উপ-কারাগারটি এখন মাদকসেবী ও বখাটেদের অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে।

অযত্ন, অবহেলা আর তদারকির অভাবে কারাগারটির দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে। অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় উপ-কারাগারের ভেতরের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ জন্মে ভুতুড়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৮১ সালে সরকারিভাবে থানাগুলোকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে সেই সময়ে প্রতিটি উপজেলা আদালতে বিচারকার্য চালু হয়।

২.৮ একইর জমির ওপর ১৯৮৪ সালে জেলা শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে জেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাটসহ ৫টি উপজেলার বিচারাধীন আসামিদের সঠিক সময়ে উপজেলা আদালতে হাজিরা দেয়ার সুবিধার্থে এই বিরামপুর উপ-কারাগারটি নির্মিত হয়।

১৯৯১ সালে সরকার উপজেলা আদালতগুলোকে জেলা শহরে স্থানান্তর করে উপ-কারাগারের জনবল প্রত্যাহার করলে দেশের অন্যান্য উপ-কারাগারের মতো এটিও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা এমন কোনো সময় নেই, এই পরিত্যক্ত জেলখানার ভেতরে বসে নিরাপদ স্থান মনে করে চলছে মাদক সেবন ও বিক্রি, নেই কেউ বাধা দেয়ার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাড়ির মালিক বলেন, কতবার প্রতিবাদ করতে গেছি, কিন্তু বিফল হয়ে ফিরে এসেছি। পুলিশ অভিযোগ পেলে চলে আসে, কিন্তু পরক্ষণই যা তাই হয়ে থাকে।

এদিকে এ বিষয়ে প্রতিবেশী নরেশ মার্ডি তার ফেসবুকে লিখেছেন, আমাদের বিরামপুর অনেক ঝুঁকিতে আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভাব যুবসমাজ রক্ষার্থে পুরনো জেলখানাটি ভেঙে ফেলা দরকার। উঠতি বয়সের অনেক ছেলে এর ভেতরে আসা-যাওয়া করে। এই তো সেদিন সন্ধ্যায় লাইট পোস্টের নিচে প্রকাশ্যে সুচ দিয়ে নেশাগ্রহণ করেছেন কয়েকজন। প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে আমাদের সবাইকে এর মাসুল দিতে হবে।

স্থানীয় আবুবক্কর বলেন, প্রতিদিন মাদকসেবীদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বাবা-মা সচেতন না হলে এর প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে প্রশাসনের নজরদারির দরকার আছে বলে মনে করছি।

প্রতিবেশী লুৎফর রহমান বলেন, দরজা খুলে ব্যালকনিতে দাঁড়ালে ভয় লাগে। বিভিন্ন ধরনের ছেলে, এমনকি কিছু বৃদ্ধ লোককেও দেখা যায় নেশা সেবন করতে। তাই প্রশাসনের কাছে আবেদন- এই পরিত্যক্ত জেলখানাটিকে ভেঙে ফেলা হোক।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপ-কারাগারের দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এই উপ-কারাগারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ রকম সারা দেশে ২৫টি উপ-কারাগার রয়েছে। তার মধ্যে ২১টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালায় ও দুটি মহিলা বিষয় মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এখানে শিশু, কিশোর-কিশোরী কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্র হবে এখনও সে রকম দিকনিদের্শনা পাইনি। তবে শুনেছি শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র হিসাবে প্রস্তাব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন এই পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটিতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন করা হতো। তাই পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী শফিকুল আলম ও আবদুর রাজ্জাককে দায়িত্বে রাখা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই উপ-কারাগার পরিদর্শন কমিটির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ম সচিব শুসেন চন্দ্র রায় এই উপ-কারাগারটি পরিদর্শনে আসেন।

তিনি পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিরামপুর উপ-কারাগারটিকে শিশু ও কিশোর অপরাধী সংশোধন কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় চালু করার প্রস্থাব করেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার যুগ্ম সচিব বিরামপুর উপ-কারাগারটি পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেছে।

অনেক সময় সচেতন মহল উপ-কারাগারটি প্রসঙ্গে উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় এটিকে সরকারিভাবে সংস্কার করে শিশুপার্ক অথবা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন।

তবে পরিকল্পিতভাবে উপ-কারাগারটিকে শিশু ও কিশোর অপরাধী সংরক্ষণাগার, শিশু-কিশোর অপরাধী সংশোধন কেন্দ্র অথবা শিশুপার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর