,



হাওরে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে: রাষ্ট্রপতি

বাঙালী কন্ঠ ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হাওর অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধ হাওরের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘একসময় মানুষ হাওরে আসতে চাইতো না। কিন্তু আজ হাজার হাজার মানুষ সারাদেশ থেকে হাওরে বেড়াতে আসছেন। বিস্ময়কর অলওয়েদার রোড দেখতে যায়। সেখানকার বড় বড় সেতু দেখতে যায়। এগুলো শুনে আমার বুকটা ভরে যায়। খুব ভালো লাগে।

তিনি বলেন, পুরো হাওর একটা পর্যটন এলাকা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। তখন প্রকৃত অর্থেই হাওর হবে অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা।’

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম সফরে গিয়ে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

এক সময়ের চরম অনগ্রসর ও অবহেলিত হাওরের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই দিন আর নেই। আজ ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উন্নয়নের দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশের মতো হাওরেও ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। সারা বছর চলাচল উপযোগী অলওয়েদার রোড হয়েছে। বড় বড় সেতু হয়েছে। গ্রামে গ্রামে সাবমার্জেবল রাস্তা হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। প্রতিটি ঘর আজ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। ভবিষ্যতে ফ্লাইওভারের মাধ্যমে সারা দেশের সঙ্গে হাওরের সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। কাজেই হাওরবাসীর স্বপ্ন অনেক ওপরে।’

রাষ্ট্রপতি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘হাওরে যেকোনও মূল্যে মাদক নির্মূল করতে হবে।’ এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে এলাকা ও মানুষকে ভুলে যাবেন না। এলাকাবাসীকে নিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। দুর্নীতিতে জড়াবেন না।’

তিনি হাওরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘হাওরে শিক্ষার মান আরও ভালো করতে হবে। এখানকার ছেলেমেয়েরা চাকরিতে পিছিয়ে থাকে, বিসিএস পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। আমরা দেশের অন্য এলাকাগুলোর সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে চাই। চাকরি-বাকরি ও যোগ্যতায় এলাকার ছেলেমেয়েরা যেন কিছুতেই পিছিয়ে না থাকে। এর জন্য যত সহযোগিতা দরকার সব দেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাওরের উন্নতি দেখে একশ্রেণির কোম্পানি হাওরের জমি কেনার পাঁয়তারা করছে। তারা একর একর জমি কিনে মিল ফ্যাক্টরি করতে চায়। কিন্তু আপনাদের বলে দিচ্ছি, আপনারা এই হাওর পারের মানুষরা প্রয়োজন হলে নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা করবেন। কিন্তু কোনোভাবেই বাইরের মানুষের কাছে জমি বিক্রি করা যাবে না। তারা জমি কিনে নিয়ে হাওর ও হাওরের ঐতিহ্য নষ্ট করে দেবে।’

অষ্টগ্রাম খেলার মাঠে স্থানীয় নাগরিক কমিটি আয়োজিত সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল হক হায়দারী, অষ্টগ্রাম রোটারি কলেজের অধ্যক্ষ মজতুবা আরিফ খান।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আগামীকাল মঙ্গলবার অষ্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে বিকালে ঢাকার উদ্দেশে অষ্টগ্রাম ত্যাগ করবেন। গত ৯ অক্টোবর সাত দিনের সফরে কিশোরগঞ্জে আসেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর