,



সব উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষকে চোখের চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। এ জন্য ভবিষ্যতে পরিকল্পনা রয়েছে প্রত্যেকটি উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করার। যার মাধ্যমে মানুষের অন্ধত্ব দূর হবে।’

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালিরও আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং লাইন ডাইরেক্টর ন্যাশনাল আই কেয়ার এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ লোক অন্ধ আছেন। যেখানে অনেকেরই অপারেশন করা সম্ভব। আমরা আড়াই লাখ লোককে অপারেশন করাতে পারি এবং অনেককেই আমরা অপারেশন করাতে পারি না। আমাদের সেই সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪০ হাজার শিশু অন্ধ আছে যাদের চিকিৎসা দিলে অনেকেই দৃষ্টি ফিরে পাবে। শিশুদের সঠিক খাবার না দিলে, পুষ্টিকর খাবার না দিলে অন্ধত্ব বরণ করবে।’

মন্ত্রী বলেন, আমাদের ১২ শ চোখের ডাক্তার আছে। কিন্তু প্রয়োজন ১৬ শ। অর্থাৎ আমাদের ডাক্তারের সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে।

চিকিৎসকদের প্রমোশনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১৫ শ ডাক্তারকে প্রমোশন দিয়েছি। আরও প্রায় ১৫ শ ডাক্তার প্রমোশন পাবে। আমরা আশা করি আপনারাও মানুষকে ভালো সেবা দেন।

মানুষ কেন অন্ধত্ব বরণ করে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিক থাকে, ব্লাড প্রেশার হাই থাকে তাহলে চোখের ক্ষতি করে। আমাদের দেশের প্রায় ৬০ ভাগ লোক মৃত্যুবরণ করে নানা অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে।’

তিনি বলেন, আমাদের নতুন নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল আই কেয়ার ৫০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করেছে। একদম রিমোট এরিয়াতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানকার মানুষ অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি লোক সেবা পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে চোখের লেন্স নিয়ে দুর্নীতি বন্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ডিবিসি চ্যানেলের রিপোর্টার হিমেল মাহবুবকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি) মো. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে চোখের লেন্স নিয়ে দুর্নীতি বন্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ডিবিসি চ্যানেলের রিপোর্টার হিমেল মাহবুবকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন মন্ত্রী।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর