,



বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৫শ’ কোটি টাকা ঋণ চায় বিআরডিবি

বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫শ কোটি টাকা ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)।

প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এই ঋণ চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চিঠিতে বিআরডিবি বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট কর্মচারীর সংখ্যা এখন ৭ হাজার ৫৩৪ জন। ২০০৯ ও ২০১০ সালের বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে ব্যয় পরিচালনা করতে যেয়ে বেতন ভাতা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ঋণ তহবিল মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করে যে সার্ভিস চার্জ পাওয়া যায় তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুরোপুরি পরিশোধ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে তাদের বেতন-ভাতা বাবদ খরচ হয় ১৬১ কোটি টাকা। কিন্তু আয়ের পরিমান মাত্র ৭৯ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি থেকে যায় ৮২ কোটি টাকা। তাই কর্মচারিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে এই ঋণ দরকার।

তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের পক্ষে নয় বিআরডিবি কর্মচারীরা। বেতন-ভাতার দাবিতে কয়েকদিন ধরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিআরডিবির সামনে বিক্ষোভ করছেন তারা।

কর্মচারীরা বলছেন, ঋণ নিয়ে সাময়িক সমস্যা সমাধান করা যাবে। কিন্তু এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাই প্রত্যেক প্রকল্পের কর্মচারীদের সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এসব প্রকল্পের আয়-ব্যয় দেখার দায়িত্ব সরকারের।

বিআরডিবির কর্মচারী সংসদের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিআরডিবির অধীনে সারা দেশে কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে উপকৃত হচ্ছেন লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ। সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পগুলো।

তারা বলেন, যেহেতু প্রকল্পগুলো জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হচ্ছে, এখান থেকে তো বেশি পরিমাণে আয় আসবে না। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আয় না হলে বেতন হবে না, এর কোনো যুক্তি নেই। প্রকল্পের আয়-ব্যয় দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের। বেতন-ভাতা পরিশোধ করার দায়িত্বও সরকারেরই। এই জন্য কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। ঋণ নিয়ে স্বল্প মেয়াদে সমস্যার সাময়িক সমাধান করা যাবে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদে থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চ্যানেল আই অনলাইন থেকে কয়েকবার ফোন ও এসএমএস পাঠিয়েও বিআরডিবির মহাপরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিআরডিবির প্রধান কার্যালয়ে গিয়েও তার সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০১৮ এর ১১ ধারা অনুযায়ী বিআরডিবির ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিআরডিবি ঋণ চেয়েছে কি না তা জানি না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয়। কিন্তু বিআরডিবি তো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়। সেই হিসাবে ঋণ পাওয়ার কথা নয়।

বিআরডিবির চিঠিতে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেসব প্রকল্প চলছে সেগুলোতে ঋণ তহবিল দরকার ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার। কিন্তু ঋণ তহবিল রয়েছে মাত্র ৯৬৮ কোটি টাকা। তাই অতিরিক্ত আরো ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকার দরকার।

মাঠ পর্যায়ে কাজের ইতিবাচক কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করাসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১, ২, ৫ ও ৮ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করণের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বিআরডিবি। এতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ সুফলভোগীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ঋণ হিসেবে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা প্রয়োজন। তাই প্রাথমিকভাবে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তহবিল সমস্যার সমাধান হলে মাঠ পর্যায়ে আরো বেশি মানুষকে বিআরডিবি সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে বিআরডিবি।

গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র, কৃষি ও সমবায় ঋণ বিতরণের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় বিআরডিবি। গ্রামভিত্তিক কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্রদের সংগঠিতকরণ, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে পুঁজি গঠন, ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি ও বীজ-সার-সেচ প্রযুক্তির আওতায় গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর