,



স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে যা

যুবলীগের মতো ক্যাসিনোকাণ্ডের হালকা ঢেউ লেগেছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগেও। সেই ধাক্কায় সংগঠনের সম্মেলন প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে গেছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধু ক্যাসিনো নয়, নেতিবাচক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অপবাদ আছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো অনেকের বিরুদ্ধেও।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সেগুলো প্রকাশ্যে না এলেও আগামীর নেতৃত্ব নির্ণায়কের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে এসব। এর বিপরীতে ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এবং দলের দুর্দিনে আঘাত সয়েছেন, কিন্তু সুদিনে নিজেকে স্বচ্ছ রেখেছেন; তারা আসছেন দায়িত্বে। নেতৃত্ব নিরূপণের মানদণ্ডে বিবেচনায় থাকছে এসব।

সূত্র বলছে, এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এতোটা বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যে, একটা আশা জাগানিয়া পরিবর্তন আসবে স্বেচ্ছাসেবক লীগে। কয়েকধাপে তথ্য সংগ্রহ, বাছাই, বিশ্লেষণ, বর্তমান কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা, এক-এগারোতে ভূমিকা, অতীতের বায়োডাটা, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অবদান, পারিবারিক ঐতিহ্য, জীবনধারণের প্রক্রিয়াসহ রীতিমতো গবেষণা হয়েছে সংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড চাইছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে এমন নেতৃত্ব নিয়ে আসতে, যাদের সততা আর দক্ষতা সংগঠনে আমূল পরিবর্তন আনবে।

আর মাত্র কয়েকঘণ্টা পর ১৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও এবার প্রায় সাত বছর পর এই সম্মেলন হচ্ছে।

এর আগে ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ১২ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহানগর উত্তরের সম্মেলন হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিন শনিবার উত্তর-দক্ষিণেরও শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হবে।

১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সাবেক এমপি হাজী মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে প্রথম কমিটি হয়। ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই সংগঠনের প্রথম সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সভাপতি ও পংকজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সাংগঠনিক সম্পাদক হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং পরে সভাপতি মনোনীত হন। ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনের দ্বিতীয় সম্মেলনে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পংকজ দেবনাথ এমপিকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

তবে সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ঘোষণার পর ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে কাওছারকে এবং পরে অন্য অভিযোগে পঙ্কজকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তাদের সম্মেলনে কোনো প্রকার সম্পৃক্ত না থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজসাজ রব চলছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই সম্মেলনে দলের হাইকমান্ড শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করতেই চাইছে না, সেই সঙ্গে সংগঠনটিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার চাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে যারা সংগঠন পরিচালনা করতে সক্ষম এমন দক্ষ নেতৃত্বই আনা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে। একইভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সংগঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখাকেও।

জানা গেছে, ক্ষমতায় আসার পর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতাই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তারা আগামীতে সংগঠনটির শীর্ষ পদে আসতে নানাভাবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন। তবে এসব নেতা শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের দৌড়ে বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ রেসে আসার আগেই তারা ডিসকোয়ালিফাই হয়েছেন। এর পরিবর্তে এখন ফোকাসে থাকছে সেইসব ছাত্রনেতা যারা জীবন বাজি রেখে দলের দুর্দিনে শেখ হাসিনার হাতকে শুক্তিশালী করেছেন, রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। সর্বোপরি দলের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা স্বত্ত্বেও কোনোপ্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়াননি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, তারা দুর্দিনের কর্মী খুঁজছেন। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাপকাঠি হচ্ছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর দুর্দিনের ত্যাগী মুখ। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের ব্যাকগ্রাউন্ড। দলেল কাণ্ডারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনিই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেবেন।

ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, এমন নেতাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে নেতৃত্বে আনা হবে বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে থেকে সেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিলরা আছে৷ তারা নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করবেন। সব কিছু অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে।’

‘সর্বোপরি আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) আছেন, তিনি হলেন সকলের অভিভাবক। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন আমরা সেইটাই ভালো মনে করব। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে যাদের ক্লিন ইমেজ, সৎ, কর্মঠ; তাদের আনা হবে।”

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে দক্ষ সংগঠক আর ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড, নেতৃত্ব বাছাইয়ে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। ’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার- এই প্রবাদের মতো সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এসে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। নিজেকে ত্যাগী আর যোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে গিয়ে নিজেকে মেলে ধরছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সহ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু (ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি), সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), সাজ্জাদ সাকিব বাদশা (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক), দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক খান, পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক আবুল ফজল রাজু প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, তারিক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সমবায় সম্পাদক এইচ এম কামরুল হাসান আইয়ুব।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল।

নেতৃত্বের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, ‘আমরা চাই নেত্রী যেভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে দেখতে চান, সংগঠনকে সেভাবে পরিচালনা করতে পারবে এমন নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে দুর্দিনের কর্মী যারা আছে, তাদের হাতে নেতৃত্ব আসলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ হবে রাজনীতির জন্য কাঙ্ক্ষিত সংগঠন।’

এক-এগারোতে নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া এই ছাত্রনেতা আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব পাওয়া প্রধান মানদণ্ড হোক ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভব, সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন নেতা। আমরা আশা করি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এবারের কমিটি হবে।

ছাত্রলীগের আরেক সাবেক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল  বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে, তখন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থেকে রাজনীতি করেছি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব পেয়ে কাজ করেছি। নেত্রী যখন যে দায়িত্বে দিয়েছেন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও যেখানেই তিনি দায়িত্ব দেবেন পালন করব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের আগামী নেতৃত্ব যেন দুর্দিনের কর্মীরা মূল্যায়িত হয় সেই প্রত্যাশা করি।’

ছাত্রলীগের রাজনীতি এবং পরবর্তীতে যে কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের নেতাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের আগামীর নেতৃত্বে প্রত্যাশা করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।

‘ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব, যে দল ও নেত্রীর প্রতি কমিটেড এই ধরনের ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে আসুক সেই প্রত্যাশা করি।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কামরুল হাসান রিপন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনের সময়ে এক-এগারোতে তুমুল আন্দোলন হয়েছে পুরান ঢাকায়। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ব্যাপক হামলার-মামলার সম্মুখীন হয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেপ্তারের পর নিম্ম আদালতে নিয়ে আসা হলো, ওই এলাকা মিছিলে-প্রতিবাদে প্রকম্পিত করেছি। পুলিশি হামলা বুক চিতিয়ে লড়েছি। নেত্রী যদি দায়িত্ব দেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তুলব। দলের জন্য ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতা যারা আছেন তারা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্ব আসলে সংগঠন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। ’

দুঃসময়ের নেতাদের মূল্যায়নের এখনই সময় উল্লেখ করে আরেক পদপ্রত্যাশী ইসহাক মিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনের সময়ে পুরোটা সময়ে বিরোধী দলে কেটেছে। অর্থাৎ আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীকে কাছ থেকে দেখেছি। সুতরাং সেই সব দুঃসময়ের নেতাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পদের দায়িত্বে আশা করি।’

এ কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল বলেন, ‘নেত্রী সৎ রাজনীতির প্রবর্তনের জন্য যে ধারা শুরু করেছেন, সেই ধারাবাহিকতার জন্য এমন নেতৃত্ব আসা উচিত, যারা সুন্দর রাজনীতির পরিচায়ক। জননেত্রীর আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে যারা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। যারা দলের ক্রান্তিকালে রাজপথে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তারাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে জানিয়ে ‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি’র আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ‘৭৯টি সাংগঠনিক জেলা থেকে গড়ে ২৫ জন করে কাউন্সিলর আসবেন সম্মেলনে। এছাড়া ডেলিগেট ও শুভাকাঙ্ক্ষি মিলিয়ে সম্মেলনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিতি থাকবেন।’

‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি’র সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু বলেন, ‘কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রের আকার বাড়ানোর একটি প্রস্তাব থাকছে। আগে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার ছিল ১০১। আমরা সেটি পরিবর্তন করে ১৫১ করার প্রস্তাব রাখছি। একই সঙ্গে তিনটি নতুন সম্পাদকীয় পদ যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন বিষয়ক এবং ডিজিটাল পাঠাগার ও আর্কাইভ বিষয়ক সম্পাদক।’

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর