,



মাশরাফির সেই বোলিং এখনও মনে আছে

বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচ হয়ে নাজমুল আবেদিন ফাহিম চষে বেড়িয়েছেন সারা দেশ। কত শত প্রতিভা উঠে এসেছে তার হাত ধরে! এখন অবশ্য সরাসরি কোচিংয়ের সঙ্গে নেই তিনি।

১৭ বছর বিকেএসপিতে কাজ করার পর বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বয়সভিত্তিক দলগুলোর নানা প্রোগ্রামে খেলোয়াড় তৈরির কাজটি করে যাচ্ছেন নীরবে। স্মৃতিচারণ করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার শুরুর দিনগুলো নিয়ে।

কালের পরিক্রমায় দেশের সব ক্রিকেটারের কোচ হয়ে ওঠা নাজমুল আবেদিন উঠতি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খুব কমই মনে রাখেন। কেউ পরামর্শ চাইলে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন সহযোগিতা করতে। মাঠে কারও পারফরম্যান্স দেখলে উদ্বেলিত হয়ে যাবেন, মনের ভেতরে গেঁথে রাখবেন তাকে- এটা তার স্বভাবে নেই! তবে একজনের বেলায় সেটির ব্যতিক্রম হয়েছে। সেই একজন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

২০০০ সালের কথা। স্কুল ক্রিকেটের ফাইনাল খেলতে মাশরাফি তখন নড়াইল থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ১৬ বছরের টগবগে তরুণ। মাশরাফির দলের প্রতিপক্ষ বিকেএসপি। বিকেএসপির কোচ তখন নাজমুল আবেদিন।

মাশরফির বোলিংয়ে সেদিন কী দেখেছিলেন নাজমুল; সেটি শোনা যাক তার


কাছেই, ‘আজ থেকে ১৭-১৮ বছর আগের কথা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকেএসপির বিপক্ষে স্কুল ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ খেলছিল মাশরাফি।

আমি সাধারণত মনে রাখি না কোন কিছু। কেউ ভালো খেলবে, আমার মনে থাকবে, আমি খুব উদ্বেলিত হয়ে যাব; আমি এরকম না। কিন্তু আমি মাশরাফির যে বোলিং দেখেছিলাম সেটি এখনও মনে আছে। কারও কথা মনে নেই, কিন্তু মাশরাফির সেই বোলিং এখনও মনে আছে।’

স্মৃতিতে বুদ হয়ে তিনি বলেন, ‘মাশরাফির ফিগার, মাশরাফির অ্যাটিচ্যুড, মাশরাফির যে মানসিকতা, এটা কিন্তু অন্যরকম ব্যাপার। তার স্বভাবটাই প্রতিফলিত হয় মাঠে। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দলে চলে আসল। ওর যে অ্যাকশন ছিল ওই বয়সে, ওর বলে যেমন ক্যারি, বাউন্স। উইকেটকিপারকে অনেকটা দূরে দাঁড়াতে হয়েছে। ওর টিমের কাছে বিকেএসপি হেরেছিল। ওই সময় বিকেএসপির হার মারাত্মক ব্যাপার।’

নাজমুল মনে করেন শুরুর সেই মাশরাফিকে পায়নি বাংলাদেশ। মাশরাফি খুব বেশি টেস্ট খেলতে না পারায় আক্ষেপ ঝড়ল তার কণ্ঠে, ‘এটা বিরাট দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, মাশরাফি টেস্ট ক্রিকেট ওভাবে খেলতে পারেনি। যে মাপের খেলোয়াড় সে মাপের খেলা আমি মাশরাফির কাছ থেকে দেখতে পাইনি।

আমার মনে হয় আসলেই মাশরাফির যেমন হওয়ার কথা ছিল সেই মাশরাফিকে আমরা পাইনি। ইনজুরির কারণে হোক অন্য কারণে হোক, সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফির আরও অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় হওয়ার কথা ছিল।’

দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে নাজমুলের মনে হয়েছে শুরু থেকেই মাশরাফির বোলিং অ্যাকশনে কিছুটা সমস্যা ছিল। যে কারণে বারবার তাকে ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে, ‘আমার ধারণা, সবসময়ই মনে হয়েছে এটা- মাশরাফির বোলিং অ্যাকশনে কিছু সমস্যা ছিল, যেটি এখনও আছে। যেটা ওকে আবদ্ধ করে দিয়েছে। অ্যাকশনের কারণে ও পায়ের উপর খুব চাপ ফেলে।’

নাজমুল আবেদিন মনে করেন মাশরাফি ভালোমানের একজন ব্যাটসম্যানও হতে পারত আরেকটু গোছানো ব্যাটিং করলে। সেটি পারলে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার হতো, ‘ওর ব্যাটিংয়ের ছিটেফোঁটা আমরা মাঝেমাঝে দেখি।

ও যদি গোছানো ব্যাটসম্যান হতো, বিশ্বের সেরা একজন অলরাউন্ডার হতো। শুরুর দিকে ও আমাকে প্রায়ই বলতো, স্যার আপনার সঙ্গে আমি ব্যাটিং নিয়ে একটু কাজ করবো। কিন্তু সময় হয়নি তখন। সময় করে উঠতে পারেনি। ও যদি ব্যাটিংটা করতা…। ন্যাচারাল একজন ব্যাটসম্যান ছিল।’-চ্যানেল আই

 

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর